পয়েন্টে এগিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুতিতে উইন্ডিজ

টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে ৯ দলের ভেতর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের অবস্থান ছয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিজেদের অতি চেনা মিরপুরের মাঠে আজ নামছে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটি খেলতে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশই তো জয়ের সম্ভাবনায় থাকবে এগিয়ে! কিন্তু এত সহজে সেটা বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রস্তুতি।
বাংলাদেশের টেস্ট দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার ওয়ানডে দলের অংশ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাটিয়ে দেশে এসে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুদিন। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে, বাকিরা ক্যাম্প করেছেন চেন্নাইয়ে। সুপার কিংস একাডেমিতে স্পিন খেলার ওপর বাড়তি প্রশিক্ষণসহ দুই সপ্তাহ অনুশীলন করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। সেখানে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে থাকা ব্যাটাররা রানহীন; শুধু টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের সামনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলে দেশে আসার পর সুযোগ ছিল জাতীয় লিগের একটা ম্যাচে খেলার। কিন্তু সেটা না করে তারা বেছে নিয়েছেন বিশ্রাম। ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়ানডে দলের ব্যাটিংটা ছিল হতশ্রী, দেশে আসার পর তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ আবার অনুশীলনে যোগ না দিয়ে মঙ্গলবার সকালটা কাটিয়েছেন ডিথ্রি ট্রফির নিলাম আয়োজনে। টেস্টের আগে দুই দলের ক্রিকেটারদের দুই ভিন্ন মানসিকতাই কমিয়ে দিয়েছে ব্যবধান।
তারপরও প্রস্তুতি নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে সন্তুষ্টি, ‘প্রস্তুতির বিষয়ে আমি বলব যে ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। বিশেষ করে আফগানিস্তান সিরিজের পর যে ক্রিকেটাররা দেশে চলে এসেছিল, তারা বেশ আগেই অনুশীলন শুরু করেছে। আমার মনে হয় আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি।’ টেস্টের আগে প্রস্তুতির সময়ের চেয়ে মিরপুরে খেলার অভিজ্ঞতাই তাদের এগিয়ে রাখবে, এমনটাই জানালেন টেস্ট অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয় যে আমাদের ক্রিকেটাররা যথেষ্ট এবং এখন তো আসলে কয়েক বছর ধরে এভাবেই ক্রিকেট খেলছি সিরিজের পর সিরিজ। তাই এই জিনিসগুলো মোটামুটি অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আরও অ্যাডজাস্টমেন্টের দরকার আছে। তবে আমি বলব যে আগের থেকে অনেক ভালো। তাই প্লেয়াররা আমার মনে হয় যে প্রিপারেশন ওয়াইজ ভালো অবস্থানে আছে।’
চোটের জন্য আরব আমিরাতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেননি লিটন দাস আর মঙ্গলবার অনুশীলনে হাতে চোট পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। কাউকে নিয়ে শঙ্কা আছে কি না— জানতে চাইলে শান্তর উত্তর, ‘লিটন সকালেও ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছে। সো ফার ভালো আছে, বাট এক্সাক্টলি এখন পর্যন্ত ফিজিও এবং ট্রেনার ওইভাবে রিপোর্টটা দেননি।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ব্যাটিং কোচের পদ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। শান্ত বললেন, এই পরিবর্তনের খুব একটা প্রভাব পড়বে না দলে, ‘আশরাফুল ভাই গত এক বছরের মতো ছিল। যতটুকু সময় কাজ করেছেন, ভালো করেছেন। এক্সপেরিয়েন্সড ছিলেন, অনেক কিছু শেয়ার করেছেন। সো, এনজয় করেছি। ব্যাটিং কোচের রিপ্লেসমেন্টে যিনি এসেছেন, উনি ড্রেসিংরুমেই ছিলেন— সালাউদ্দিন স্যার। এখানে খুব বেশি একটা ইম্প্যাক্ট পড়বে না এবং সবাই আমরা জানি।’
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ ভরসা রাখছেন ঘাম ঝরানো প্রস্তুতিতে, ‘দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই চেন্নাইয়ের ক্যাম্পে ছিল। আর যারা সেখানে ছিল না, তারা ভারতের বিপক্ষে ৫০ ও ২০ ওভারের সিরিজে ব্যস্ত ছিল। এরপর পুরো দল একসঙ্গে দুটি দারুণ অনুশীলন সেশন পেয়েছে এবং আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগও পেয়েছি। তাই আমার মনে হয় দলের সবাই এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।’ প্রতিভা, অভিজ্ঞতা এসবই মূল্যবান; তবে পরিশ্রম কাউকে কখনো ফেরায় না। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে অনেক দিক থেকেই এগিয়ে। অন্তত আর্থিক দিক থেকে বটে, যেখানে তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি হয়ে খেলোয়াড়দের শতভাগ বেতন বাড়িয়েছেন, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের বেতন ২৫ শতাংশ কমিয়েছে বোর্ড। কারণ অর্থের সংকট। এমন অসম পরিস্থিতিতে কখনো কখনো পরিশ্রমই গড়ে দেয় ব্যবধান।




