এবারও যাওয়া-আসাই সার

পরপর দুটি কমনওয়েলথ গেমস থেকে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ। ২০২২ বার্মিংহামের মতো গ্লাসগো গেমসেও হতাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ১৫ ক্রীড়াবিদ। এসএ গেমসের বাইরে বৈশ্বিক আসরে কমনওয়েলথ গেমসেই ছিল যা কিছু অর্জন। বাংলাদেশের শুটাররা নিয়মিতই দাঁড়িয়েছেন পোডিয়ামে। তবে শেষ দুই কমনওয়েলথ গেমসে শুটিং ছিল না। অন্যদের কাছে গেমস মানেই আনুষ্ঠানিকতা ও দেশ ভ্রমণের উপলক্ষ হওয়ায় বাংলাদেশের নামও ওঠেনি পদক তালিকায়। অথচ প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের ঠিকই আছে অর্জন।
১৯৯০ অকল্যান্ড গেমসে বাংলাদেশকে প্রথম পদক এনে দিয়েছিলেন দুই শুটার আতিকুর রহমান ও আব্দুস সাত্তার নিনি। এরপর ২০০১ ম্যানচেস্টার গেমসে সোনার হাসি হাসেন রাইফেল শুটার আসিফ হোসেন খান। ২০০৬ মেলবোর্ন গেমসে একটি রুপা, ২০১০ দিল্লি গেমসে একটি ব্রোঞ্জ, ২০১৪ গ্লাসগো গেমসে একটি রুপা, ২০১৮ গোল্ড কোস্ট গেমসে দুটি রুপা এনে দেন বাংলাদেশের শুটাররা। এই ধারায় ছেদ পড়ে ২০২২ বার্মিংহামে। এবারও গ্লাসগো রাখেনি বাংলাদেশের জন্য একমাত্র পদকপ্রসবা খেলাটিকে।
গেমসে মোট চারটি ডিসিপ্লিনে ছিল বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। পদকের খুব কাছে পৌঁছেও পারেননি বক্সার রাকিব হোসেন। ৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যান অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষের কাছে। বাকি দুই বক্সার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জিনাত ফেরদৌস ও রুহিন রেজা নিজ নিজ ইভেন্টের প্রথম ম্যাচেই বাজেভাবে হেরেছেন।
সেমিফাইনালের স্বপ্ন ছিল দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানকে ঘিরে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী স্প্রিন্টার ১০০ মিটারে বছরের সেরা টাইমিং করলেও বাদ পড়ে যান হিট থেকে, ৭৩ জনের মধ্যে হন ২৭তম। হতাশ করেছেন দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারও। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে যে টাইমিং করেছিলেন, তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি। ৪০০ মিটার
স্প্রিন্টে লুশাদ ইসলাম ৪৬ জনের মধ্যে ৩৬তম, ৪০০ মিটার হার্ডলসে নাজিমুল হোসেন ২২ জনের মধ্যে ১৮তম এবং লং জাম্পে স্বপ্না খাতুন ১১ জনের মধ্যে হন ১১তম।
সাঁতারে ব্যক্তিগত টাইমিংয়ের কিছুটা উন্নতি ঘটাতে পেরেছেন দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডে ট্রেনিং করা সামিউল ইসলাম রাফি। তিন ইভেন্টে নিজের সেরা টাইমিং করেছেন। তবে তিন সাঁতারু সোনিয়া আক্তার, কাজল মিয়া ও সুকুমার রাজবংশী শুধু অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। জিমন্যাস্টিকসে অংশ নিয়েছিলেন তিন বাংলাদেশি। শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফিকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল ১০ দেশের মধ্যে হয়েছে অষ্টম।
এমন পারফরম্যান্সে হতাশ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও এই গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ। এর জন্য অ্যাথলেটদের নয়, বরং সরকার ও ফেডারেশনগুলোতে দাঁড় করিয়েছেন কাঠগড়ায়, ‘সরকার এবং ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা পরিকল্পনা নেই। আমরা কোন গেমসে কী অর্জন করতে চাই, এর জন্য কী কী করা দরকার, সেগুলো নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। এভাবে চলতে থাকলে বারবার মাথা নিচু করেই ফিরতে হবে।’
কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই ক্রীড়াবিদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও হয় ভুল। ইমরোজের কাছে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বক্সার জিনাত ফেরদৌস, লং জাম্পার স্বপ্না খাতুনকে কেন সুযোগ দেওয়া হয়েছে— সেটিও অজানা। ১৭ বছরেও শিরিনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো নতুন মুখ উঠে না আসার দায় ফেডারেশনকে দিয়েছেন বিওএ কর্তা।
সরকারের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ ইমরোজের। সরকারের কাছে গত জানুয়ারিতে তিনটি বড় গেমসের জন্য বাজেট চেয়ে এখনো পায়নি বিওএ। ফেডারেশনগুলোকে ক্যাম্প পরিচালনার খরচও তারা দিতে পারেনি। ফলে এশিয়ান গেমসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরের দেড় মাস আগেও বেশিরভাগ ফেডারেশন ঠিকঠাক ক্যাম্প শুরু করতে পারেনি।







