আমেরিকান স্বপ্ন গুঁড়িয়ে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ

সংগৃহীত ছবি
নিউ ইয়র্কের গ্যালারিতে আমেরিকান সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিলেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। ২৩ বছর পর আমেরিকার কারও ইউএস ওপেন জেতার স্বপ্ন ভাঙলেন তিনি।
এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেনে জিতেছিলেন নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম। রবিবার বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে জিতলেন ইউএস ওপেনও। তাতে এক বছরেই জিতলেন দুটি গ্র্যান্ড স্লাম। শেলটনের সঙ্গে আগের পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছিলেন জভেরেভ। এবার তাকে হারালেন টানা ষষ্ঠ ম্যাচে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে টেনিসে রাজত্ব করেছিলেন ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজ। চোটের জন্য তাদের সেরা ছন্দে না থাকার সুযোগটা ভালোভাবে নিয়েছেন জভেরেভ।
অষ্টম বাছাই শেলটনের লক্ষ্য ছিল ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর প্রথম আমেরিকান পুরুষ হিসেবে মেজর জেতা। কিন্তু ম্যাচের প্রথম গেমেই সার্ভিস হারান তিনি। আর জভেরেভ শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জেতেন প্রথম দুই সেট।
তৃতীয় সেটে তৃতীয় ব্রেক পয়েন্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের ২৪,০০০ দর্শককে গর্জে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছিলেন শেলটন। সেই উচ্ছ্বাসটা থাকেনি বেশি সময়। চতুর্থ সেটের শুরুতেই শেলটন বাজে সার্ভিস গেম করায় আমেরিকানদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন জভেরেভ।
চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টে শেলটনের রিটার্ন কোর্টের বাইরে চলে যাওয়ার পর জভেরেভ প্রথমে বুঝতেই পারেননি তিনি ম্যাচ জিতে গেছেন! নিজের সাপোর্ট স্টাফের দিকে তাকানোর পর তারা পয়েন্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে হাসতে থাকেন এই জার্মান।
এবারের ইউএস ওপেনে শুরুর দিকের রাউন্ডগুলোতে কোনোমতে টিকে ছিলেন জভেরেভ। তবে দুই সপ্তাহের টুর্নামেন্টে ফাইনালের আগে শীর্ষ-২০ এর কারও মুখোমুখি না হওয়ায় ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে ফেরেন তিনি।
ম্যাচের প্রথম গেমেই ব্রেক পয়েন্টে ডাবল ফল্ট করে বসেন শেলটন, যা জভেরেভের মতো খেলোয়াড়কে শুরুতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। প্রথম সার্ভের জোর এবং বেসলাইন থেকে শেলটনের দুর্বল ব্যাকহ্যান্ডকে লক্ষ্য করে সহজেই প্রথম সেটটি জেতেন তিনি। এমনকি সেট পয়েন্টেও শেলটন আরও একটি ডাবল ফল্ট করেন।
২০২০ সালের ইউএস ওপেন ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও হেরে গিয়েছিলেন জভেরেভ। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার পেলেন দাপুটে জয়।
ফাইনাল শেষে বাবা আলেকজান্ডার সিনিয়র এবং ভাই মিশার কোচিং টিমকে জভেরেভ বলেন,‘আমরা ৩০ বছর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়া কাটিয়েছি, আর এখন তিন মাসে দুটি জিতলাম। ঈশ্বর দেখেছেন আমরা কতটা পরিশ্রম করেছি, কতটা কষ্ট সহ্য করেছি। ২০২৬ সাল হল আগের সব বছরের কষ্টের সুফল।’



