আগামীর সময়

খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে না আসার আহ্বান

সাবিনার মাঠের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘কাজ শেষের দিকে’

সাবিনার মাঠের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘কাজ শেষের দিকে’

খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবার হওয়া সাফ ফুটসালে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। সাবিনার নেতৃত্বে এর আগে দুটি সাফ ফুটবলের শিরোপাও জিতেছে বাংলাদেশ। অথচ দেশে বাফুফের কোন ফুটসাল মাঠ নেই। মেয়েদের ফুটবল মাঠও অপ্রতুল।

ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে বক্তব্যে সাবিনা খাতুন মাঠের দাবি জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে, ‘সকল ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে বলতে চাই, এটা আমাদের জন্য অনেক সম্মানের। এটি আমাদের আরও উজ্জীবিত করে। দেশের পতাকা যখন বুকে ধারণ করি, তখন একটাই কথা মাথায় আসে, দেশের সম্মান। ব্যক্তিগতভাবে বলতে চাই, আমরা প্রথমবার ফুটসালে অংশ নিয়ে ভালো ফল করেছি। কিন্তু সেই জায়গায় আমাদের কোনও ফুটসাল মাঠ নেই। এ নিয়ে আমি ক্রীড়া মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের যেন একটি মাঠের ব্যবস্থা করা হয়।’

সাবিনার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা, আমরা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে কাজটা শেষের দিকে। মেয়েরা যেন নিরাপদ জায়গায় খেলতে ও অনুশীলন করতে পারে, সে জন্য মাঠ বাছাইসহ সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে। অলমোস্ট ডান। খুব শিগগিরই জানতে পারবে।’

এছাড়া ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’

খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,‌‌‌ ‌‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়; বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।'

 তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

খেলায়াড়রদের ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সবাই। ‎গত নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসের মিশ্র দ্বৈতে রুপাজয়ী খই খই সাই মারমা বললেন, ‘এখন তো নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা হবে। আমরা যারা এই তালিকায় আছি, তারা চেষ্টা করব পারফরম্যান্স ধরে রাখতে। আবার যারা তালিকার বাইরে, তারাও চাইবে ভালো করে ভাতার আওতায় আসতে।’

    শেয়ার করুন: