সরকারি ভাতার আওতায় আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদ

দ্বিতীয় ধাপে ১৭১ ক্রীড়াবিদ এলেন সরকারি ভাতার আওতায়। সঙ্গে পেয়েছেন ক্রীড়া কার্ডও। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় এনেছে সরকার। রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এর আগে ১২৯জনকে আনা হয়েছিল ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায়। সব মিলিয়ে ৩০০জন ক্রীড়াবিদ পাচ্ছেন সরকারি ভাতা। তবে এই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের সবাইকে দেওয়া হয়নি এই ভাতা। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচের স্কোয়াডে থাকা ২৩ ফুটবলারের মধ্যে হামজা চৌধুরীসহ বাদ পড়েছেন আট ফুটবলার।
আবার সিঙ্গাপুর স্কোয়াডে না থেকেও এই তালিকায় চলে এসেছে তিন ফুটবলারের নাম। মেয়েদের এশিয়ান কাপে খেলা ২৬ সদস্যের দল থেকে এই তালিকায় বাদ পড়েছেন আটজন।
রবিবার ৩৬ ফুটবলার (নারী-পুরুষ), ৩৬ হকি খেলোয়াড় (নারী-পুরুষ), ১৪ ভলিবল খেলোয়াড়, ১১ আরচার, ১১ দাবাড়ু, ১০ হ্যান্ডবল খেলোয়াড়, ১০ ভারোত্তোলক, নয় জিমন্যাস্ট, ছয় সাঁতারু, পাঁচ শুটার, পাঁচ প্যাডলার (টেবিল টেনিস), চার সাইক্লিস্ট, চার উশু খেলোয়াড়, তিন জুডোকা, দুই বডি বিল্ডার, দুই কিক বক্সার, দুই টেনিস খেলোয়াড় ও একজন ট্রায়াথলারকে ভাতার আওতায় এনেছে সরকার।
দ্বিতীয় ধাপে ১৭১জনকে আনা হয়েছে সরকারি ভাতার আওতায়। সব মিলিয়ে সরকারের ভাতা পাচ্ছেন ৩০০ জন। পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের সবাইকে রাখা হয়নি এর আওতায়। প্রবাসী ফুটবলারদের পাশাপাশি কয়েকজন স্থানীয়র নাম কাটা পড়েছে। এশিয়ান কাপ খেলা নারী দলে আটজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পুরুষ দল থেকে সরকারি ভাতার আওতায় রাখা হয়নি পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার ও তিন স্থানীয় ফুটবলারকে। হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, জায়ান আহমেদ, ফাহামিদুল ইসলামের পাশাপাশি ভাতা পাবেন না তারেক কাজীও। এছাড়া সর্বশেষ স্কোয়াডে থাকা বিশ্বনাথ ঘোষ, আরমান ফয়সাল আকাশ ও সুমন রেজাও বাদ পড়েছেন।
সিঙ্গাপুর স্কোয়াডে না থাকলেও ভাতার তালিকায় আছেন তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন ও সোহেল রানা জুনিয়র। অস্ট্রেলিয়ায় ওমেন্স এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছিল ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অথচ ভাতা দেওয়া হচ্ছে ১৮জনকে। বাদ পড়া আটজন হলেন- প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, স্বর্ণারানী মন্ডল, হালিমা আক্তার, উন্নতি খাতুন, সুরভী আক্তার আরেফিন, আইরিন খাতুন, মোসাম্মৎ সুলতানা ও আলপি আক্তার।
৩০ মার্চ প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২৯জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। রবিবার ক্রীড়ামন্ত্রী দিলেন আরও ১৭১জনকে। পর্যায়ক্রমে তালিকাটি ৫০০-তে উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক, 'আমরা ৫০০জনকে এই ভাতার আওতায় আনবো। প্রতি মাসের ভাতা নির্ধারিত সময় যার যার ব্যাংক হিসেবে চলে যাবে। বর্তমানে যারা পাচ্ছেন তাদের পারফরম্যান্স চার মাস পর রিভিউ করা হবে।’
আমিনুল হক আরও যোগ করেন,‘ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতার মানসিকতায় গড়ে তোলা ও খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুবিধার্থে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের ভবিষ্যৎ, বর্তমান প্রজন্ম লেখাপড়া করে কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী বা চাকুরিজীবী হবেন না, পাশাপাশি ক্রীড়াকেও তারা পেশা হিসেবে বেছে নিবে।'

