হ্যান্ডবলকে কক্ষে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ

টুর্নামেন্ট শেষে স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। উচ্ছ্বাসটা প্রকাশ করলেন অকপটে— ‘টুর্নামেন্ট নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে, দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সঠিক পথেই আমরা এগোচ্ছি।’ বাংলাদেশ নারী দলের তরুণ স্প্যানিশ কোচের দাবি অনুযায়ী, সত্যিই দেশের হ্যান্ডবল সঠিক পথে আছে কি না, সেটা বুঝতে চোখ রাখতে হবে আগামীতে। তবে ঘরের মাঠে দীর্ঘ ২৬ বছর পর সিনিয়র পর্যায়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন যে উদ্দেশ্য নিয়ে করেছিল হ্যান্ডবল ফেডারেশন, তা পূরণের কথা জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ। এখানেই থেমে থাকতে চান না। বাংলাদেশের হ্যান্ডবলকে, বিশেষ করে নারী হ্যান্ডবল দলকে সেই স্তরে নিয়ে যেতে চান, যেখানে তারা জোর গলায় ভারতকে হারানোর কথা বলতে পারবেন।
আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি হ্যান্ডবলের সফল আয়োজন শেষে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন সালাউদ্দিন, ‘আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমরা এসএ গেমসে স্বর্ণপদক পেতে চাই।’ ভারতীয় আধিপত্য খর্ব করার যে সাহসী লক্ষ্যের কথা জানালেন, তা পূরণে নিজের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তিনি, ‘আমরা ৫২ দিনের জন্য কোচ নিয়োগ দিয়েছিলাম। এর ফল আমরা পেয়েছি। এ থেকে আমাদের শিক্ষা হলো, আমাদের বিদেশি কোচ আনতেই হবে।
আমাদের এই দলটি ২৩ নভেম্বর কাজাখস্তান যাচ্ছে এশিয়ান উইমেন চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে। ফিরে এসে ১৫ দিন বিশ্রামের পর এই দলকে আমরা চীনে পাঠাব এক মাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে। সেখান থেকে ফিরে বাংলাদেশ এপ্রিলে যাবে এসএ গেমসে খেলতে। আমরা গতবার ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। এবার রৌপ্য নয়, আমরা স্বর্ণপদকের জন্যই চেষ্টা করব। আর একটা কথা বলতে চাই, আমরা এভাবেই এগোতে চাই, যাতে তিন বছর পর আমরা ভারতকে পেছনে ফেলতে পারি।’ সে সাহস সালাউদ্দিন পাচ্ছেন টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক মেয়েদের লড়াকু মানসিকতা দেখে।
আন্তর্জাতিক সাফল্য নিয়ে অতীতে মাথাই ঘামাননি ফেডারেশন কর্তারা। তবে সালাউদ্দিন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সাফ জানিয়েছেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন কোনো টুর্নামেন্ট আর করবে ফেডারেশন। সবকিছুর পেছনেই থাকবে একটা সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। যেটা হলো দুটি জাতীয় দলকে শক্তিশালী করা, ‘হ্যান্ডবল ফেডারেশন এখন থেকে আর টুর্নামেন্ট করার জন্য করবে না। জাতীয় দলকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের স্থানীয় কোচদেরও উন্নত করতে হবে। স্প্যানিশ কোচকে দিয়ে আমরা ছয় দিনের কোচেস কোর্স করাব। একই সঙ্গে আমাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত রেফারি নেই। আমরা চেষ্ট করছি দুজন রেফারিকে কোর্স করিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত রেফারি হিসেবে গড়ে তুলতে। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন টুর্নামেন্ট করে সরকার ও দেশের টাকা অপচয়ের অধিকার আমার নেই। দলবেঁধে জেলা থেকে এসে, কদিন ঢাকা শহরটা দেখে চলে যাওয়া, এমনটা আর হতে দেব না।’
অচিরেই হ্যান্ডবল ফেডারেশন আট জেলার ৮৬টি স্কুল নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এরপর বাছাইকৃতদের নিয়ে হবে ২০ দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। অনেক কিছুই করতে চাইছেন সালাউদ্দিন। এখন দেখার, হ্যান্ডবলকে সঠিক কক্ষে ফেরানোর চ্যালেঞ্জটা তিনি জিততে পারেন কি না।



