পুরুষের ছদ্মবেশ, পাথরের আঘাতের পরও অদম্য হাশিমি

সংগৃহীত ছবি
তার রক্তেই সাইক্লিং। বড় বোন ইউলদুজও আন্তর্জাতিক সাইক্লিস্ট। বোনকে দেখে ১৫ বছর বয়সে সাইক্লিংয়ে এলেও পথটা সহজ ছিল না আফগান তরুণী ফারিবা হাশিমির জন্য।
সাইক্লিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে একসময় পুরুষের ছদ্মবেশ নিতে হয়েছে। ছুঁড়ে মারা পাথরের আঘাত থেকে বাঁচাতে হয়েছে নিজেকে। শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে জন্মভূমিও। সেই ২৩ বছর বয়সী ফারিবা হাশিমি এশিয়ান গেমসের নারীদের ইন্ডিভিজুয়াল টাইম ট্রায়ালে হলেন সপ্তম। সেরা তিনে হয়ত থাকা হয়নি কিন্তু তার এ পর্যন্ত আসাটাও কম সাফল্যের নয়।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ফারিবা বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমান। এখন বসবাস করছেন ইতালিতেই। ফারিবা হাশিমি বললেন,‘আমার কাছে এটি কেবল আমার পারফরম্যান্সের ব্যাপার না। বরং দেশের মানুষকে এটি দেখানো যে, এই পরিস্থিতিতেও একজন নারী পিছিয়ে নেই। আমরা এখনো বেঁচে আছি আর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, যেন পরবর্তী প্রজন্ম দেশের ভেতরে থেকেই এশিয়ান গেমসে প্রতিযোগিতা করার, বিশ্বকে জানার এবং পদক জয়ের সুযোগ পায়।’
১৫ বছর বয়সে ফারিবা তার বোন ইউলদুজকে অনুসরণ করে সাইক্লিংয়ে আসেন। তবে তাদের নিজ প্রদেশ ফারিয়াবে সাইক্লিং করা ছিল ভীষণ বিপদের। এজন্য ছেলের ছদ্মবেশ নেওয়ার কথা বললেন হাশিমি,‘অনুশীলনে যেতে আমি সবসময় পুরুষের পোশাক পরতাম। দুই বা তিনটি মাস্ক ব্যবহার করতাম, যেন কেউ আমাকে চিনতে না পারে বা আক্রমণ না করে। তারা আমাকে চিনে ফেলবে—এই ভয়ে আমি আতঙ্কে থাকতাম। কখনো কেউ চিনে ফেললে আমার মাথা লক্ষ্য করে বড় পাথর ছুঁড়ে মারা হতো। মানুষ পানির বোতল মারত। আক্রমণাত্মক আচরণ ও হিংস্রতায় তারা আমাকে ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। আমার খুব কঠিন সময় কেটেছে, তবে আমি বলছি না আমার দেশের মানুষ খারাপ। আমাদের দেশটি সুন্দর, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা।’
১৯৯৭ সালের রোড সাইক্লিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আলেসান্দ্রা কাপেলোতোর সহায়তায় হাশমি পাড়ি জমান ইতালিতে। দুই বছর আগে তাদের দুই বোনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্যারিস অলিম্পিকে।
তবে এখন দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বললেন,‘আমি দেশে যেতে পারছি না, অনেকদিন পরিবারকে দেখতে পাচ্ছি না। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলাম। মানুষের পাথরের আঘাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছিলাম। ভবিষ্যতে আমার দেশের ভেতরের পরিস্থিতি বদলে দিতে চাই। দেশে ফিরে মানুষকে অনুপ্রাণিত করাই এখন আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’



