২২০ কেজি ওজন নিয়ে খেলতেন বাস্কেটবল, মারা যান ঘুমের মধ্যে

বিশালদেহী বাস্কেটবল খেলোয়াড় ট্রয় জ্যাকসন।
বাস্কেটবল কোর্টে ২২০ কেজি ওজন নিয়ে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষ, অথচ তার ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রতা দেখে মনে হতো কোনো পেশাদার খেলোয়াড়। তিনি ট্রয় জ্যাকসন। বাস্কেটবল দুনিয়ায় যাকে সবাই ‘এস্কালেড’ নামে চিনতেন। কডিল্যাকের বিশালাকার এসইউভি গাড়ির নামানুসারে রাখা এই ছদ্মনামটিই তার ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বাস্কেটবল হলো গতির খেলা। খেলোয়াড়দের হতে হয় ছিপছিপে গড়নের। কিন্তু ট্রয় জ্যাকসন সেই প্রথা ভেঙে দিয়েছিলেন। ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতা আর ২২০ কেজি ওজন নিয়েও তিনি বল হাতে যখন কোর্টে নামতেন, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা খেই হারিয়ে ফেলত। ২০১১ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ঘুমের মধ্যে পৃথিবীকে বিদায় জানানো এই তারকার জীবন ও প্রতিভা আজও বাস্কেটবলপ্রেমীদের কাছে বিস্ময়।
ট্রয় জ্যাকসনের জন্ম ১৯৭৩ সালে নিউইয়র্কের কুইন্সে। তার বড় ভাই মার্ক জ্যাকসন ছিলেন এনবিএর কিংবদন্তি খেলোয়াড় এবং গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের ‘আর্কিটেক্ট’ খ্যাত কোচ। ভাইয়ের ছায়ায় নয়, ট্রয় নিজের প্রতিভা দিয়েই পরিচিতি পেতে চেয়েছিলেন। স্কুল জীবনেই তার দানবীয় শরীর আর অসামান্য স্কিল স্কাউটদের নজর কেড়েছিল।
লুইসভিল বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বাস্কেটবল স্কলারশিপ দেয়। শর্ত ছিল— ওজন কমাতে হবে। ট্রয় কঠোর পরিশ্রমে প্রায় ৫৫ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া শাসনে নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি। তাই দুই মৌসুমে মাত্র ২০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। এনবিএর মূল মঞ্চে জায়গা না হলেও ভাগ্য তার জন্য অন্য এক দুয়ার খুলে রেখেছিল।
২০০৩ সালে ট্রয় যোগ দেন বিখ্যাত ‘এএনডি ১ মিক্স টেপ ট্যুর’-এ। এখানেই তিনি হয়ে ওঠেন ‘এস্কালেড’। তার ড্রিবলিং, নো-লুক পাস আর পোস্ট প্লে দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় করত। বাস্কেটবল কোর্টের কঠোর নিয়মের বাইরে তিনি ছিলেন একজন বিনোদনদায়ী ক্রীড়াবিদ। তার সতীর্থ গ্রেসন বাউচার বলতেন, ‘ট্রয় ছিল বিশাল হৃদয়ের অধিকারী। খুব নরম স্বভাবের মানুষ। লোকে শুরুতে তার বিশাল দেহ দেখে ভয় পেত, কিন্তু কথা বললেই বুঝত সে একটা বিশাল টেডি বিয়ার।’
২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসে অল স্টার গেম চলাকালীন নিজের হোটেল রুমে মারা যান ট্রয়। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ট্রয়ের মৃত্যুর সম্ভবত ১২ ঘণ্টা পর অন্যরা খবর পায়। কারণ, তাকে যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, তাতে ধারণা করা হয় আগের রাতে ফোনে কথা বলার পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ট্রয় জ্যাকসন শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সচেতন মানুষও। আশির দশকে এইডসে আক্রান্ত হয়ে অন্য এক ভাইকে হারানোর পর তিনি এই রোগের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আজীবন কাজ করেছেন। তার মা পাঁচ বছর আগে এক স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, ‘ট্রয়ের প্রতিভা ছিল অগাধ, কিন্তু শৃঙ্খলা ছিল মার্কের চেয়ে কম। যদি ওর মধ্যে মার্কের মতো নিয়মানুবর্তিতা থাকত, তবে সে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় খেলতে পারত।’

