এশিয়ান গেমস
কাবাডি এখন আর পদক প্রসবা নয়

পদকের অপেক্ষা এখন দুই যুগের
টোকাই সিটিজেন জিমন্যাসিয়ামে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল। আগের দিন ভারতের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করা বাংলাদেশ অপেক্ষায় ছিল ভারতের সঙ্গে চাইনিজ তাইপের ম্যাচের ফলাফলের। বৃহস্পতিবার দুপুরে শক্তিশালী ভারত অনেক বড়ো ব্যবধানে চাইনিজ তাইপেকে হারালে পয়েন্টের সমীকরণে বাংলাদেশ পৌঁছে যেতো সেমিফাইনালে। তাতে দুই দশক পর নিশ্চিত হতো পদক। ভারত তাইপেকে হারালেও ব্যবধানটা (৩৭-২১) বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই এবারও ব্যর্থতার বৃত্ত এবারও ভাঙা হয়নি, এশিয়াডের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
চার ম্যাচের সবকটি জিতে ‘এ’ গ্রুপের সেরা ভারত। চাইনিজ তাইপে, বাংলাদেশ ও জাপানের পয়েন্ট সমান চার করে। গ্রুপের আরেক দল দক্ষিণ কোরিয়া সব ম্যাচ হেরে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের চার ম্যাচের ফলাফল বাদ হয়ে যাবে। সেই সমীকরণে বাংলাদেশের কাছে হেরেও পয়েন্ট গড়ে দ্বিতীয় হয়েছে চাইনিজ তাইপে। পক্ষে-বিপক্ষে, পয়েন্টের যোগ-বিয়োগ এবং কোরিয়ার ম্যাচ চারটির ফলাফল বাদ দিয়ে দেখা যায়, চাইনিজ তাইপের গড় পয়েন্ট -১৩। বাংলাদেশের -২৫ এবং জাপানের -২৬।
অথচ তাইপে ও কোরিয়াকে হারিয়ে দারুণ শুরু করা বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচে হেরে বসে জাপানের কাছে। সে ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হতো পদক। অথচ, নিজেদের ডিফেন্ডারদের শিশুসুলভ ভুল আর দুই কোচ আব্দুল জলিল ও বাদশা মিয়ার পরস্পর বিরোধী অবস্থানে সে ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৪০-৩৭ ব্যবধানে। এরপর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার।
তারপরও ভারত বড় ব্যবধানে চাইনিজ তাইপেকে হারালে একটা সুযোগ থাকতো, মনে করেন কোচ আব্দুল জলিল, ‘আগেই বলেছি আমাদের ডিফেন্সের দুর্বলতার কথা। তাছাড়া আমরা চাইনিজ তাইপেকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারিনি, ভারতের কাছে হেরেছি বাজেভাবে। আবার আজ ভারত যদি তাইপেকে বড় ব্যবধানে হারাতো, তাহলেও একটু সুযোগ থাকতো।’
এদিকে মেয়েদের অবস্থা আরও নাজুক। চার দলের এ গ্রুপে তারা হয়েছে তৃতীয়। বাজেভাবে হেরেছে ভারত ও ইরানের কাছে। পদক সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা অবশ্য জাপানকে হারায়।
২০০৬ দোহা গেমসে সর্বশেষ পদক জিতেছিল পুরুষ কাবাডি দল। মেয়েরা সর্বশেষ ২০১৪ ইনচন গেমসে পদক জিতেছিল। এরপর থেকে পদকটা বাংলাদেশের কাবাডিতে মরীচিকায় রূপ নিয়েছে ভুল পথে হেঁটে। তাই বলাই যায়, কাবাডি এখন আর বাংলাদেশের জন্য পদক প্রসবা খেলা নয়।



