ডারউইন জয়ই বাংলাদেশের সেরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘হারের কারণটা খুবই সহজ। বাংলাদেশ আমাদের উড়িয়ে দিয়েছে’— ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর মেনে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্টিভেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন দুর্গে বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কাই কোনো টেস্ট জেতেনি। পাকিস্তান জিততে পারেনি টানা ৩৬ বছর। সেখানে মাত্র তৃতীয় টেস্টে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। শুধু জয় নয়, অস্ট্রেলিয়াকে চার দিনের প্রতিটি সেশনে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ১৬০ ম্যাচে জয় শুধু ২৮টি। এ তালিকায় অস্ট্রেলিয়া-বধকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ টেস্ট জেতা নাজমুলের কথার সঙ্গে দ্বিমত করারও উপায় নেই। করলেন না প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও, ‘বেশ কিছু বড় জয় আছে আমাদের। তবে এটা বিশেষ। নিউজিল্যান্ডে জেতা টেস্টও বড় ছিল। ওখানেও কঠিন। তারপরও এটা একেবারেই আলাদা। সব দিক দিয়ে ভালো খেলে এই ম্যাচ জিতেছি। সবাই সবাইকে সাহায্য করেছে। স্পিনার, পেসার, ব্যাটার— অবিশ্বাস্য খেলেছি আমরা।’
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আইসিসিতে আলোচনা হয়েছে ‘দ্বিস্তর টেস্টের’, যেখানে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলো সুযোগ পেত না ‘বড়’দের সঙ্গে খেলার। নাজমুলদের জয়টাকে তাই শুধু বাংলাদেশ নয়, ক্রিকেট ইতিহাসেরই বাঁকবদলের অংশ মনে করছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের কী অসাধারণ এক জয়! আইসিসির দ্বিস্তরের টেস্ট ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার এটিই আরেকটি বড় কারণ!’
হারের ধাক্কাটা সামলাতে না পেরে খোদ অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ লিখেছে, ‘বাংলাদেশ পেল প্রধানমন্ত্রীর ফোন, আর অস্ট্রেলিয়া কল পাচ্ছে নতুন প্রতিভা খোঁজার।’ একটা জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের ভিত এভাবে নাড়িয়ে দিতে পারেনি আর কেউ।
ডারউইনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা টেস্ট জয় মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডকে মুমিনুল হকের দল হারায় ৮ উইকেটে। সেটাই ছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। অথচ সেই সফরে যাননি বাংলাদেশের সেরা দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মুশফিকুর রহিম খেললেও ছিলেন বিবর্ণ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইবাদত হোসেন ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দেন কিউইদের। জয়ের পর সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, ‘সবসময় ভাবা হয়, আমরা চার-পাঁচজন ছাড়া খেলোয়াড় নেই। তো আমার ধারণা, সেটা একটা ভুল প্রমাণ হলো।’
বাংলাদেশের সেরা পাঁচ জয়ের অন্য তিনটি টেস্ট— ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারানো, ২০১৬ সালে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৮ রানের জয় আর এ বছর মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের জয়। রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং উদ্যানে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। মুশফিকুর রহিমের ১৯১-এ বাংলাদেশ পায় ৫৬৫ রানের পুঁজি। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ ও সাকিব আল হাসান ৩ উইকেট নিয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে দেন পাকিস্তানকে।
২০১৬ সালে মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে হারানো ম্যাচে নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানে ৬টির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নেন ৭৭ রানে ৬ উইকেট। সেই মিরপুরে স্পিনিং ট্র্যাকের বদলে তৈরি করা হয় স্পোর্টিং উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে নাহিদ রানা এনে দেন ১০৪ রানের জয়। এমন পালাবদলের সুফলই বাংলাদেশ পেল ডারউইনে।






