ইংরেজিটা দুর্বোধ্য কোচদের জন্য!

৬১ জেলার জন্য ক্রিকেট কোচ নিয়োগ করবে বিসিবি। ২১৮টি আবেদনের বিপরীতে উত্তীর্ণ ৩৮ জন। যোগ্য প্রার্থীর সংকট দেখে বিসিবি আবারও দেবে কোচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
এক অনুত্তীর্ণ প্রার্থীর দাবি, ‘প্রশ্ন কঠিন ছিল। এ রকম কঠিন হলে পাস করা যায় না।’
কোচের পরীক্ষা-সংক্রান্ত কমিটির একজন বলেছেন অন্য কথা, ‘প্রার্থীরা সবচেয়ে খারাপ করেছে ইংরেজি রিপোর্ট রাইটিং অংশে। কিন্তু ক্রিকেট কোচিংয়ের জন্য এটা খুবই দরকার।’
কিছুদিন আগে ঢাকায় এসে আইসিসির কোচিং ইন্সট্রাক্টর বিনোদ কুমার দাসও বলেছিলেন একই সমস্যার কথা, ‘এশিয়ার ক্রিকেট কোচদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ভাষাগত দক্ষতা, বিশেষ করে ইংরেজি না জানা।’
ক্রিকেট কোচদের ইংরেজি জানাটা খুব দরকার। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোচিং ম্যানুয়াল, টেকনিক্যাল আপডেট, প্রশিক্ষণের রীতিনীতি— সবই লেখা থাকে ইংরেজিতে। আর সেখানেই গলদ বেশিরভাগ কোচের। তাহলে কী করে তারা ক্রিকেট আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছেন! তারাই আবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাডেমিতে কোচিং করাচ্ছেন, গড়ে তুলছেন তরুণ ক্রিকেটার।
২১৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৮ জন। ফলে ৬১টি পদের বিপরীতে যোগ্য প্রার্থী সংকটে পড়েছে বিসিবি
সারা দেশে এখন ক্রিকেট শিক্ষার ধুম পড়েছে। ছেলেদের ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্নে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন একাডেমিগুলোয়। উপজেলা-জেলা পর্যায় থেকেই কিশোর ক্রিকেটার আস্তে আস্তে বিভাগীয় বা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছায়। একাডেমিতে প্রথম শিক্ষাটা সঠিক হলে তার উত্তরণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিসিবির এই কোচ নিয়োগ পরীক্ষা যে সংশয়ে ফেলে দিয়েছে। কিশোরদের সঠিক ক্রিকেট শিক্ষা দিতে পারছেন তো তৃণমূলের কোচরা?
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সরাসরি বলা যাবে না যে, ক্রিকেটাররা ভুল শিখছে। জাতীয় দল বা পাইপলাইনের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের শুরু জেলা থেকেই।’ পরক্ষণেই তিনি আবার মেনে নিয়েছেন কোচিং এডুকেশনে ঘাটতির কথা, ‘এতদিন আমাদের কোচিং এডুকেশনের কাজটা ভালোভাবে হয়নি। যাদের দায়িত্ব ছিল তারা কাজ করেছে কি না, সেটা আমি এখন বলতে পারছি না। তবে মোটাদাগে বললে অবশ্যই ঘাটতি ছিল।’
৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ১৫ শতাংশেরও কম পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। নিয়োগ শর্ত শিথিল করে নতুন করে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞপ্তি
তাই আজ সারা দেশের কোচ নিয়োগ দিতে চেয়েও যোগ্য লোকজন খুঁজে পাচ্ছে না। কোচিং ম্যানুয়াল ও একজন কোচের যেসব জিনিস জানা উচিত, সেসব বিষয়েই প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন পরীক্ষা কমিটির একজন। লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক— সব মিলিয়েই মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই ফলের পর নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই পরিবর্তন আনছে বিসিবি। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে লেভেল-১ সনদ বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতার যে শর্ত ছিল, সেটি শিথিল করে নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে। আগে আবেদন করা প্রার্থীরাও আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন।
শুধু নিয়োগ নয়, কোচদের দক্ষতা উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বোর্ড। ফাহিম সিনহা বলেছেন, ‘হতে পারে ইংরেজির কারণেই অনেকের সমস্যা হয়েছে। রিপোর্ট ইংরেজিতেই দিতে হয়, তাই পরীক্ষাও ইংরেজিতে রাখা হয়েছে। অতীতে এ বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, সেটাই একটা সমস্যা। এখন আমরা সেই ঘাটতি পূরণ করব। যারা পাস করবে তাদের জন্য কোচিংয়ের অনলাইন কোর্স রাখা হবে প্রতি মাসে। এতে ঢাকা না এসেও তারা সঠিক বিষয়টি জানতে পারবেন।’
জেলা কোচদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের যে অভাব ছিল, বিসিবিও এখন তা স্বীকার করছে। তাই এই পরীক্ষার ফল শুধু একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যর্থতার হিসাব নয়; এটি দেশের তৃণমূল ক্রিকেট কোচিং ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতারও স্পষ্ট প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, বিসিবির নতুন উদ্যোগ সেই দুর্বলতা কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে।




