সবার গোল আছে রোনালদোর নেই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যার সঙ্গে একটা সময় ছিল শ্রেষ্ঠত্বের দ্বৈরথ, সেই লিওনেল মেসি বিশ্বকাপটা শুরু করলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হলান্ড; তারকা ফুটবলারদের সবাই তো গোল করেছেন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই। এখন পর্যন্ত মাঠে গড়ানো ৪০টি ম্যাচে ১২১টি গোল হয়ে গেছে, অথচ ৯০ মিনিট মাঠে দৌড়ে একটি গোলও করতে পারেননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, যার পেশাদার ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে অনেক সমালোচনা, চাপান উতোরসহ নানা কিছু। জল গড়িয়েছে রোনালদোর সঙ্গিনী জর্জিনা পর্যন্ত।
রোনালদোকে নাকি সতীর্থরা পাস দিচ্ছেন না, এমন একটি অভিযোগ ঘুরছে অন্তর্জালে। উজবেকিস্তানের ম্যাচ সামনে রেখে পর্তুগালের সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সেসকা কনসেসাওকেও দিতে হয়েছে এ প্রশ্নের জবাব। কনসেসাও বলেছেন, ‘রোনালদোকেই যে বলটি পাস দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে সেরা পজিশনে থাকবে আর বিনা পাহারায় থাকবে, বলটি তার কাছেই দেওয়া হবে। রোনালদো দলের অন্য সবার মতোই একজন, প্রত্যেকেই এখানে একটি সম্মিলিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এসেছি।’ যদিও কনসেসাও এটিও মেনে নিয়েছেন যে, ক্রিস্তিয়ানোর অর্জন অনেক, তবে দলে তার বাড়তি কোনো গুরুত্ব নেই ‘৪১ বছর বয়সে এসেও ক্রিস্তিয়ানো নিজের ক্যারিয়ার এবং এখনো যে গোলক্ষুধা ধরে রেখেছেন, তার জন্য তিনি একটি অনন্য উদাহরণ... তিনি একাধারে নেতৃত্ব এবং গোলস্কোরিংয়ের এক দুর্দান্ত ... ’
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের ভেতর পর্তুগালের অবস্থান গোলে শট কম নেওয়া দলগুলোর তালিকায়। কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ৭৮৩টি পাস পূর্ণ করে আর বল দখলের ৭৫ শতাংশ ধরে রাখার পরও তাদের গোলমুখী শট মাত্র সাতটি আর লক্ষ্যে ছিল মাত্র একটি। জোয়াও নেভেসের সেই হেড, যেটা থেকেই তারা পেয়েছে পর্তুগালের একমাত্র গোল। পর্তুগালের চেয়ে গোলমুখী শটের সংখ্যায় পিছিয়ে আছে আর মাত্র পাঁচ দল। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চয়ই এতটা রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে কৌশল সাজাবেন না কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তবে তাকে নিয়ে খুব একটা ভরসা নেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একসময়ের তারকা গোলকিপার ডেনমার্কের পিটার স্মেইকেলের। মার্তিনেজকে নিয়ে পর্তুগিজ একটি সংবাদমাধ্যম ‘এ বোলা’কে স্মেইকেল বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপের , ’
পর্তুগাল গোল না পাওয়ায় যেখানে রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, সেখানে স্মেইকেল দোষ দিলেন যে লোক দলটি চালাচ্ছে তার ওপর, ‘জোয়াও ফেলিক্স আর রাফায়েল লিয়াওকে বেঞ্চে বসিয়ে কেউ কীভাবে আশা করে যে, তার কৌশল কাজ করবে? তার পরিকল্পনা যে কাজ করছে না সেটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। কাগজে-কলমে পর্তুগাল অনেক আক্রমণাত্মক ও সম্ভাবনাময় দল, অথচ মাঠে তারা রক্ষণশীল ও অতিরিক্ত সাবধানী।’
স্মেইকেল আরও বলেছেন, কৌশল না বদলালে পর্তুগাল আরেকটি সোনালি সুযোগ নষ্ট করবে, ‘এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দলটা পর্তুগাল, অথচ তারা তাদের সামর্থ্যের ধারেকাছেও খেলতে পারছে না। সবকিছু যদি দ্রুত ঠিক না হয় তাহলে পর্তুগাল আরেকটি সোনালি সুযোগ হাতছাড়া করবে।’
রোনালদো যেমন হতে পারেন পর্তুগালের সম্পদ, তেমনি মাথাব্যথার কারণও। সেটিই স্মরণ করিয়ে ইংলিশ সাবেক তারকা অ্যালান শিয়েরার বলেছেন, ‘আমি পর্তুগালের পরের ম্যাচে রোনালদোকে শুরুর একাদশে রাখতাম। কিন্তু খেলা যদি ঠিকঠাক না জমে, তবে পরিষ্কার বলে দিতাম যে, তাকে মাঠ থেকে উঠে আসতে হবে। বোঝাতে চাচ্ছি— তাকে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়ার অনুমতি আসলে কোচের আছে কি না, কারণ রোনালদো অসম্ভব প্রভাবশালী। কাজটি সত্যিই খুব কঠিন। ও একজন বৈশ্বিক সুপারস্টার, যে বহু বছর ধরে ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, পর্তুগালের জার্সিতে তার পা থেকে কোনো গোল আসছে না আর রোনালদো চেনা ফর্মের ধারেকাছেও নেই।’



