বিশ্বকাপের কোটিপতিরা

বিশ্বকাপ জিতলে কত টাকা পাবেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কিংবা লিওনেল মেসি? একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নই থাকে একদিন বিশ্বকাপটা জেতা, যে আক্ষেপে পুড়েছেন আলফ্রেদো দি স্তেফানো, ইয়োহান ক্রুইফের মতো কিংবদন্তিরাও। শীর্ষ ফুটবলারদের জীবনে একটা সময় অর্থের প্রবাহ আসে জোয়ারের পানির মতোই। বিশ্বকাপ সেই প্রবাহে দু-এক ফোঁটা জলের মতোই। বিশ্বকাপ না জিতেও অনেক তারকা ফুটবলারই অঢেল অর্থকড়ির মালিক। বিশ্বকাপ জিতলে প্রাইজমানির যে অংশ তারা পাবেন, সেটি হয়তো তার এরই মধ্যে রোজগার করে নেওয়া অর্থবিত্তের কাছে নস্যি।
এ বছর বিশ্বকাপ জয়ী দলকে ফিফা প্রাইজমানি হিসেবে দেবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, তার আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতে ফ্রান্স পেয়েছিল ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রাইজমানির বাইরে এ বছর অংশগ্রহণকারী সব দলকে প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের জন্য ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে দিচ্ছে ফিফা। তাই বলা যায়, বিশ্বকাপ জিতে ফিফার কাছ থেকে একটা দেশ বা স্বীকৃত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ৫১.৫ মিলিয়ন ডলার পেতে পারে।
বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদের সুলুক সন্ধান করে ফোর্বস ম্যাগাজিন। তারা বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের খতিয়ান বা বিলিয়নেয়ার লিস্ট তৈরিতে বছর জুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিবিড় অনুসন্ধানী পদ্ধতি অনুসরণ করে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের চোখে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ফুটবলারের ৯ জনই খেলছেন এবারের বিশ্বকাপে। বাদ গেছেন শুধু একজন, ফ্রান্সের করিম বেনজেমা।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের ভেতর ফোর্বসের হিসাবে সবচেয়ে সম্পদশালী পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাগাজিনটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অন্তত ২৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করবেন রোনালদো, ২৩০ মিলিয়ন পাবেন সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসর থেকে আর ৫০ মিলিয়ন আসবে বিন্যান্স, নাইকি ও হারবালাইফের মতো পণ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে। রোনালদোর পরই আছেন মেসি; এ বছর তার আয় হতে পারে ১৩০-১৪০ মিলিয়ন ডলার।
১০৪ মিলিয়ন ডলার বার্ষিক আয়ের করিম বেনজেমা বিশ্বকাপে নেই, তবে বছরে ৯৫ মিলিয়ন আয় করা তারই স্বদেশি এবং একসময়ের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে খেলা কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন বিশ্বকাপে। ফ্রান্সের মহাতারকা ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের ধনী খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনে। চারে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হলান্ড, তার বছরে আয় ৮০ মিলিয়ন ডলার। পাঁচে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, তার বার্ষিক আয় ৬০ মিলিয়ন ডলার। বছরে ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় নিয়ে ছয়ে আছেন মিসরের মোহামেদ সালাহ, লিভারপুলে ৯ বছর কাটিয়ে ‘প্রিন্স অব ইজিপ্ট’ হয়তো আগামী মৌসুমে খেলবেন সৌদি প্রো লিগ বা এমএলএসে, তখন নিঃসন্দেহে বেতন বাড়বে তার!
বছরে ৫৪ মিলিয়ন ডলার আয় সেনেগালের সাদিও মানের, সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলেন এই ফরোয়ার্ড। আটে আলজেরিয়ার হয়ে খেলা ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহারেজ, তার বার্ষিক আয় ফোর্বসের হিসাবে ৫২ মিলিয়ন ডলার। নয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা ইংরেজ ফুটবলার জুড বেলিংহাম, তার আয় বছরে ৪৪ মিলিয়ন ডলার। দশে স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল, ফোর্বসের চোখে তার বার্ষিক আয় ৪৩ মিলিয়ন ডলার।




