শরণার্থী শিবির থেকে নায়ক

গোলের পর ইরানকুন্ডা
শরণার্থী ফুটবলারদের নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ছিল আলোচনা। তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক বনে গেলেন তাদেরই একজন। নেস্টোরি ইরানকুন্ডার গোলেই তুর্কিদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে সকারুরা। ম্যাচের পর জয়ের নায়ক ইরানকুন্ডা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে গোল করে স্বপ্নপূরণ হয়েছে তার।
তানজানিয়ায় জন্ম নেওয়া ইরানকুন্ডা ম্যাচের শুরু থেকেই ছিলেন সকারুদের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে। ২৭ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দলকে এগিয়ে নেন ওয়াটফোর্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড। ওকন-এংস্টলারের চোখধাঁধানো এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। গোল উদযাপনে কিংবদন্তি টিম কাহিলকে স্মরণ করে কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে বক্সিংয়ের পোজ দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরদা গুলের ও কেনান ইলদিজের একের পর এক আক্রমণ একাই রুখে দিয়ে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন এই তরুণ গোলকিপার। শেষদিকে তুরস্ক যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই আরেকটি দুর্দান্ত প্রতি আক্রমণ থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফ। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
মাত্র ২০ বছর বয়সে গোল করে কনিষ্ঠতম অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়েছেন ইরানকুন্ডা। ম্যাচ শেষে ইরানকুন্ডা বলেছেন, ‘এ যেন স্বপ্নপূরণের মতো দিন! আমি দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশের সবাইকেও। সবাই আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। এমন ম্যাচে গোল পেয়ে অবিশ্বাস্য অনুভূতি হচ্ছে। এখন আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এই মুহূর্তটা কখনোই ভুলব না।’ শেষবার যখন বিশ্বকাপ খেলেছিল স্কটল্যান্ড, বর্তমান দলের বেশিরভাগ সদস্য তখন নাবালক। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্কটিশরা যেবার সর্বশেষ জয় পেয়েছিল, তখন তো এই দলের হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ জন্মই নেননি! দীর্ঘ এক অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপে এলো সেই স্বপ্নের জয়। হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় শেষে স্কটিশ কোচ স্টিভ ক্লার্ক বলেছেন, ব্রাজিল ও মরক্কোর বিপক্ষে চাপ ছাড়াই মাঠে নামবেন তারা। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই জয় পেল তারা। বিশ্বকাপে তাদের শেষ জয় ছিল ১৯৯০ সালে। এই জয়ে স্কটল্যান্ড গ্রুপ ‘সি’র শীর্ষে উঠে এসেছে।
ক্লার্ক বলেছেন, শেষ দুই ম্যাচে চাপ নেবেন না তারা, ‘সবাই বলছিল এটি জিততেই হবে এমন ম্যাচ। আমরা জিতেছি। রক্ষণভাগ অসাধারণ খেলেছে। বল নিয়ে আরও ভালো করতে পারতাম কিন্তু তাতে কী আসে যায়? বিশ্বের সেরা ১০ দলের মধ্যে থাকা দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরের দুটি ম্যাচ কঠিন হবে। তবে এ ম্যাচের আগে আমাদের ওপর যে চাপ ছিল, এখন তার তুলনায় কিছুটা কম চাপ নিয়ে আমরা মাঠে নামতে পারব।’ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের ইতিহাস খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। শনিবারের জয়টি ছিল তাদের ২৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচে মাত্র পঞ্চম জয়। ক্লার্ক বলেছেন, ‘এটাই প্রমাণ করে বিশ্বকাপে এসে স্কটল্যান্ডের মতো দেশের জন্য ম্যাচ জেতা কতটা কঠিন। এটা খুব বেশি ঘটে না। যখন সবাই বলে এটি জিততেই হবে এমন ম্যাচ আর আপনি সেটি জিতে যান, তখন খেলোয়াড়রা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’



