ভিনিসিয়ুসদের ভাগ্য ফেরাতে জার্সি ধোয়া বন্ধ!

প্রিয় দলের জন্য জার্সি ধোয়া বন্ধ করেছেন ব্রাজিল সমর্থক ইয়োহান লেরবাউম।
ফুটবলপ্রেমীদের কুসংস্কার কিংবা বিচিত্র সব কাণ্ডকারখানা নিয়ে গল্প গাঁথার অভাব নেই। বিশ্বকাপ এলে সেই পাগলামি যেন আরও বেড়ে যায়। প্রিয় দল বিশ্বকাপ না জিতলে বিয়ে করব না- এমন ঘটনা বাংলাদেশে হরহামেশাই শোনা যায়। কিন্তু খোদ আমেরিকার বাসিন্দা ব্রাজিলের এক সমর্থক প্রিয় দলের ভাগ্য ফেরাতে নিজের জার্সি ধোয়া বন্ধ করে দিয়েছেন! খবর ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’র।
এই অদ্ভুত পণ করা সমর্থকের নাম ইয়োহান লেরবাউম। ১১ বছর বয়সে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এই তরুণ জীবনে প্রথমবার সামনাসামনি সেলেসাওদের দেখার সুযোগ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিস টাউনশিপে বেজক্যাম্প বানিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা কাকতালীয়ভাবে ইয়োহানের বাসার খুব কাছে। তাই প্রিয় ফুটবলারদের একনজর দেকতে প্রতিদিন সকাল আটটায় সেখানে হাজির হয়ে যান এই ভক্ত।
আসল মজাটা লুকিয়ে আছে ইয়োহানের পোশাকে। ইয়োহান জানিয়েছেন, প্রতিদিন তিনি একটি নির্দিষ্ট নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি গায়ে চাপিয়ে ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের অনুশীলন দেখতে আসেন। আর সেই বিশ্বকাপের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত জার্সিটিতে এক ফোঁটা সাবান-পানিও পড়তে দেননি তিনি!
লেরবাউমের ভাষায়, ‘আমি প্রতিদিন এই একই জার্সিটা পরে আসি। সত্যি বলছি, এটা আমি একবারও ধুইনি! এই নোংরা জার্সিটাই এখন আমার কাছে ব্রাজিলের সৌভাগ্যের প্রতীক। যতক্ষণ না ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছে, কিংবা ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরছে, ততক্ষণ এটা এই অবস্থাতেই থাকবে।’
অনুশীলন মাঠের গেটে কড়া পুলিশি পাহারা থাকলেও প্রতিদিন অপরিস্কার জার্সি পরে আসায় নিরাপত্তারক্ষীদের কাছেও চেনা মুখ হয়ে উঠেছেন ইয়োহান। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রীতিমতো বন্ধুত্ব পাতিয়ে তিনি অনুশীলনস্থলের কাছাকাছিও পৌঁছে যেতে পারেন। নীল জার্সি পরলেও সাথে একটি হলুদ জার্সিও রাখেন ইয়োহান, যদি কখনো নেইমার-ভিনিদের অটোগ্রাফ পাওয়া যায়, সেই আশায়। তবে সেটি ধোয়া কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি!
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে ব্রাজিল। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামবে আনচেলত্তির দল। ইয়োহানের বিশ্বাস, এই ম্যাচে তরুণ স্ট্রাইকার এনদ্রিককে সুযোগ দিলে ব্রাজিল ঠিকই গোলবন্যা ভাসাবে।






