রোমারিওর কলাম
ব্রাজিলকে ১০-এ ৮ দেব

সংগৃহীত ছবি
কী এক উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের ম্যাচই না গেল! এটা সত্যি যে, কোনো সহজ ম্যাচের আশা করিনি, কারণ জাপান খুবই সংগঠিত একটি দল। একদম শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে, তা-ও আবার পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতা— সবার হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল!
প্রথমার্ধে আমরা খুব একটা ভালো খেলিনি। বলের দখল বেশি থাকার পরও প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি চেপে ধরতে পারেনি ব্রাজিল। আধিপত্য থাকলেও কার্যকারিতা ছিল না। অন্যদিকে জাপান দারুণ রক্ষণভাগ সামলে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণ চালাচ্ছিল। এরপর আমাদের একটি ভুলের খেসারত দিতে হলো, দানিলোর দুর্বল ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ নিয়ে জাপানের মিডফিল্ডার কাইশু সানো দুর্দান্ত এক গোল করে বসল। এই গোলটি তাদের ধারাবাহিকতা এবং ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলারই পুরস্কার; তারা ব্রাজিলের টেকনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বকে সমীহ করেছিল এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছিল।
বিরতির সময় কোচ আনচেলত্তি প্রমাণ করে দিলেন যে, দলের ওপর সত্যিই তার দারুণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি কাসেমিরোকে মাঠে বজায় রাখলেন, সেই আমাদের প্রথম গোলটি করেছিল। কোচ সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে নিলেন এবং খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করলেন। পাকেতা ইনজুরিতে পড়ায় মিডফিল্ড দুর্বল হয়ে যাওয়ার একটা শঙ্কা ছিল। কিন্তু তরুণ এনদ্রিক, প্রত্যাশামতোই আক্রমণে গতি বাড়িয়ে দিল। তারপরই আমরা ওদের ওপর চড়াও হলাম। আমাদের খেলার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলো এবং আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সচেতনতা নিয়ে জাপানিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলাম।
গোল করার অজস্র সুযোগ তৈরি হলো, শট পোস্টে লেগে ফিরে এলো, ডিফেন্ডাররা গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দিল, আর গোলকিপার অলৌকিক সব সেভ করল। গোল পাওয়াটা তখন শুধু সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। আর আমরা জাপানি খেলোয়াড়দের কম উচ্চতার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শূন্যে ভাসানো বল দিয়ে দারুণভাবে ফায়দা লুটেছি।
ম্যাচের আসল দিকটি হলো, কোনো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল না, বরং তা ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আলিসনকে পুরো ম্যাচে প্রায় কোনো কাজই করতে হয়নি; গোলমুখে আসা একমাত্র শটটিই জালে জড়িয়েছিল। জাপান বেশিরভাগ সময় রক্ষণাত্মক খেলেছে এবং মাঝেমধ্যে কাউন্টার-অ্যাটাক করেছে। কিন্তু ব্রাজিল হাল ছাড়েনি। কাঙ্ক্ষিত গোলের খোঁজে আনচেলত্তি চমৎকার কিছু বদলি খেলোয়াড় নামালেন। মার্তিনেল্লি একদম সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে দেখাল। নিখুঁত পাসিংয়ের চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে সে বল জালে জড়ায়। এমনকি বলটি পোস্টে লেগে ভেতরে ঢোকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়েছিল! সত্যি বলতে, কোনোভাবেই আমরা ড্র করার মতো খেলিনি, জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল।
জাপানের কঠিন প্রতিরোধ বিবেচনা করে সব মিলিয়ে আমাদের এই পারফরম্যান্সকে ১০-এর মধ্যে ৮ দেব। আমি আগেই বলেছি, আমাদের দলটির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে আর বিশ্বকাপে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আশা করছি, পাকেতা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে আর আমরা আবার একই দল নিয়ে মাঠে নামতে পারি। এটি শুধু দলের বোঝাপড়ার জন্যই নয়, বরং শুরুর এই কম্বিনেশনটাকে আরও শক্তিশালী করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি, যা ধীরে ধীরে আরও ধারাবাহিক হচ্ছে। দলের খেলার একটি নির্দিষ্ট শৈলীও তৈরি করছে।
সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই! জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও দেখিয়ে দিল, নকআউটে জেদ এবং লড়াইয়ের মানসিকতাই আসল। এখন থেকে বুকভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে!
পরের ম্যাচে নরওয়ে বা আইভরি কোস্ট— যারাই আসুক না কেন, তারা কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। এই দুটি দল নিশ্চিতভাবেই আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। তবে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা পরের ধাপে যাওয়ার আর হেক্সার পথে যাত্রা বজায় রাখার যোগ্যতা রাখি। ওহ, পরের ম্যাচটি যেন এত দমবন্ধ করা উত্তেজনার না হয়!




