মরক্কোর খেলোয়াড়দের মায়েরা কি মাঠে আসবেন?

নেদারল্যান্ডস ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার পর ইসমাইল সাইবারি গ্যালারিতে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন তার আবেগাপ্লুত মাকে। ছবি: সংগৃহীত
দুই বিশ্বকাপ ধরে মরক্কো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। আফ্রিকান লায়ন্সের উত্থানের পেছনে খেলোয়াড়দের যেমন অবদান তেমনি তাদের মায়েদেরও! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, গ্যালারিতে মায়েদের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করত মাঠে।
২০২২ বিশ্বকাপে আশরাফ হাকিমির তার মাকে জড়িয়ে ধরা ও সোফিয়ান বুফালের মায়ের সঙ্গে নাচের দৃশ্যগুলো নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে। এগুলো মরক্কোর ফুটবল অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে বৈকি।
এবারের টুর্নামেন্টেও এমন মুহূর্ত দেখা গেছে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে। জয়সূচক পেনাল্টি নেওয়ার পর ইসমাইল সাইবারি সরাসরি গ্যালারিতে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন তার আবেগাপ্লুত মাকে। কোয়ার্টার ফাইনালে আজ অন্য ফুটবলারদের মায়েরাও উপস্থিত থাকতে পারেন মাঠে। তবে এ নিয়ে তাদের ফুটবল কর্তৃপক্ষ আগাম কিছু জানায়নি।
কাতার বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার পর খেলোয়াড় ও তাদের মায়েদের একসঙ্গে স্বাগত জানিয়েছিলেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। মরক্কোর ফুটবল কর্তৃপক্ষ মনে করে, ওই দৃশ্যগুলো স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপনের নিদর্শনের পাশাপাশি একটি সুচিন্তিত দর্শনেরও অংশ।
রয়াল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি ফউজি লেকজা মনে করেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের মায়েদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্যে ফেডারেশনের ইতিবাচক মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। এটা ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে খেলোয়াড়দের।’
খেলার সময় মায়েদের উপস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যায় হাকিমির স্মৃতিচারণে, ‘আমরা অভাবের সংসারে বড় হয়েছি। মাঠে লড়াই করছি শুধু বাবা-মায়ের জন্য। আমার স্বপ্ন পূরণে তারা নিজেদের জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন।’
মরক্কোর প্রবীণ সাংবাদিক হামিদ বেল হাসান মনে করেন, ‘কোনো খেলোয়াড় গ্যালারিতে নিজের মাকে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে ভীষণ অনুপ্রাণিত বোধ করে। পরিবার, বিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বই মরক্কো ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’




