বেঁচে থাকল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ

সংগৃহীত ছবি
মধ্যরাতে হঠাৎ রাজপথে মিছিল। পটকার শব্দ। মোটরসাইকেলের জোরালো হর্ন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মাঝেমধ্যে মধ্যরাতে ঝটিকা মিছিল বের করে বটে, কিন্তু মিছিলের স্লোগানে তো জয় বাংলা ধ্বনি নেই। বরং শোনা যাচ্ছে “মেসি”, “আর্জেন্টিনা”। বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর ঢাকার রাজপথ যেন হয়ে গেল এক টুকরো বুয়েনস এইরেস কিংবা আটলান্টা। আর্জেন্টিনার জয়ে বেঁচে থাকল বাংলাদেশেরও বিশ্বকাপ। কারণ, ব্রাজিলের পথ ধরে আর্জেন্টিনাও যদি বিদায় নিত শেষ ১৬ থেকে, তাহলে ১৮ কোটি মানুষের বিশ্বকাপ উত্তেজনাও যে ফিকে হয়ে যেত।
বিশ্বকাপ কেন্দ্র করে সামাজিক, অর্থনৈতিক কত রকম কর্মকাণ্ডেরই তো পসরা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা দলবেঁধে খেলা দেখছেন বড় পর্দায়। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ক্যাফে রেস্তোরাঁয় রাতভর বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন, সেই সুবাদে পুরনো বন্ধুদের একসঙ্গে হওয়া। এমন সময়ে আর্জেন্টিনারও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মানে নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উত্তেজনা বর্ষার ন্যাতানো মুড়ির মতোই মিইয়ে যাওয়া। সব বাঁচিয়ে দিল জাদুকরী ১৩ মিনিট। ম্যাচের ৭৯ মিনিট থেকে ৯২তম মিনিট, এই ৭৮০ সেকেন্ড বাঁচিয়ে দিল অনেক স্বপ্ন, হয়তো প্রাণও। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেডে, মেসির ঐশ্বরিক বাঁ পায়ের জাদুর পর এনসো ফের্নান্দেসের গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে টিএসসি থেকে মহসিন হল, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম থেকে শিমুলিয়া ফেরিঘাট। এই ৩ গোলে আর্জেন্টিনা শুধু নিজেদের শিরোপার স্বপ্নই বাঁচিয়ে রাখল না, বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশের বিশ্বকাপও।




