ছটফট করছিলাম ফেরার জন্য

ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরলেন নেইমার
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর চোটে পড়ার ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরলেন নেইমার। আবেগী এ সুপারস্টার কেঁদেছেনও মাঠে ফিরে। নিজের শেষ বিশ্বকাপে এখন তার লক্ষ্য শিরোপা জেতা। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো
প্রশ্ন: এতদিন পর ফিরে আবেগী হয়ে পড়েছেন আপনি?
নেইমার: এই ফেরাটা আবেগের। এতদিন আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, আমার বাবাকে কাঁদতে দেখেছি, নিজের চোখের জল ধরে রাখা সত্যিই কঠিন ছিল... আমি কীসের ভেতর দিয়ে গেছি, তা তারা খুব ভালো করেই জানে। মাঠে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।
প্রশ্ন: আপনার নামের স্লোগান উঠেছিল গ্যালারিতে। দর্শকরাও মুখিয়ে ছিলেন আপনার খেলা দেখতে।
নেইমার: ফিরে আসতে পারাটা অবিশ্বাস্য রকমের রোমাঞ্চকর। এই দীর্ঘ সময়টা চোখের সামনে দ্রুতগতির সিনেমার মতো ভেসে উঠেছিল। আমি এই মুহূর্তটির জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলাম। সবাই জানেন এখানে ফিরে আসতে আমাকে কী করতে হয়েছে। এই ফুটবলই আমার জীবন। এখন লক্ষ্য হলো নিজের খেলার উন্নতি ধরে রাখা, যেন আরও বেশি সময় মাঠে খেলতে পারি এবং দলে অবদান রাখতে পারি।
প্রশ্ন: ব্রাজিল এখন নকআউটে। সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য কতটা প্রস্তুত?
নেইমার: মাঠে নামলে আমি সবসময় নিজের বাড়ির মতো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ওটাই আমার থাকার জায়গা আর সেখানেই থাকতে ভালোবাসি। সবাই জানে যে ফুটবলে ছোটখাটো খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন কোনো ভুল করার বিলাসিতা দেখাতে পারি না। আমরা যত কম ভুল করব, একেকটা রাউন্ড পার হওয়া তত সহজ হবে। সামনের ম্যাচগুলো খুব কঠিন হবে, তবে আমরা প্রস্তুত।
প্রশ্ন: আপনার বন্ধু মেসি প্রথম দুই ম্যাচেই করেছেন ৫ গোল।
নেইমার: মাঠে সে কতটা ভালো, তা তো সবাই জানেন। মাঠের বাইরে সে আরও অসাধারণ। ও খুব ভালো বন্ধু। সে জানে আমি তাকে কতটা ভালোবাসি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার শঙ্কা করেছিলেন কখনো?
নেইমার: না, সত্যি বলতে তেমন কোনো দ্বিধা ছিল না। আমি সবসময়ই ফিরে আসার কথা ভেবেছি, সবসময়ই ভেবেছি আমি এখানে থাকব এবং আমি তা করে দেখিয়েছি। ব্রাজিলিয়ানদের এই ভালোবাসা পেয়ে আমি আপ্লুত। এখানে পৌঁছানো সহজ ছিল না। আমি খেলার জন্য প্রস্তুত, তা যত মিনিটের জন্যই হোক না কেন। আমি জাতীয় দলকে সাহায্য করতে এখানে এসেছি, মিনিটের সংখ্যা যাই হোক না কেন, আমি প্রস্তুত।
প্রশ্ন: আপনি না থাকায় গত তিন বছরে এই দলটি কতটা শক্তিশালী হয়েছে?
নেইমার: আমি এই দলের খেলোয়াড়দের অনেক দিন ধরেই চিনি। সবার খেলার মান সম্পর্কে আমার খুব ভালো ধারণা আছে। আমি প্রায় তিন বছর দলের বাইরে ছিলাম, ছটফট করছিলাম ফেরার জন্য। এই দলটা চমৎকার এবং টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে আমরা তত শক্তিশালী হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্যটা দীর্ঘমেয়াদি।
প্রশ্ন: এই দিনটি কীভাবে মনে রাখবেন?
নেইমার: এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা এবং বিশেষ একটি দিন। ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো যে কারও আরাধ্য স্বপ্ন। আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই জার্সি পরেছি, দীর্ঘদিন এই জার্সি থেকে দূরে থাকাটা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি ফেরার জন্য ছটফট করছিলাম; আর প্রায় তিন বছর পর আমি ফিরতে পারলাম। আমি স্তব্ধ। ড্রেসিংরুমে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম, এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আবার হতে পেরে আমি কেঁদে ফেলেছি। আমি সবসময় বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছি, এমনকি এটি জেতার স্বপ্নও দেখি। যে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা আমার জন্য গলা ফাটান, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
৯৮১ দিন পর নেইমারের ফেরা
১৭ অক্টোবর, ২০২৩
উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে হাঁটুতে ভয়াবহ চোট পান। মাঠের বাইরে ছিলেন প্রায় ১ বছর
২২ অক্টোবর, ২০২৪
৩৬৯ দিন পর আল হিলালের হয়ে মাঠে ফেরেন নেইমার
৫ নভেম্বর, ২০২৪
ফিরতে না ফিরতেই আবারও ইনজুরিতে নেইমার
৩১ জানুয়ারি, ২০২৫
আল হিলাল থেকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরা
১৮ মে ২০২৬
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পর মে মাসে পড়লেন মাংসপেশির ইনজুরিতে
২৫ জুন ২০২৬
৯৮১ দিনের অপেক্ষা ফুরিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে ফিরলেন নেইমার




