বলছেন মাইকেল ওয়েন
আর্জেন্টিনায় একজন মেসি আছে, এটাই ভয়ের

সংগৃহীত ছবি
নরওয়ে বেশিরভাগ সময় আমাদের উড়িয়ে দিয়েছিল এবং আমরা খেলার নিয়ন্ত্রণই নিতে পারছিলাম না। আমি ঠিক যা আশঙ্কা করেছিলাম, তা-ই ঘটেছিল। আমি এখন অনেকের মুখে শুনছি যে, ম্যাচ এভাবেই জিততে হবে। ইংল্যান্ডকে কুৎসিত ফুটবল খেলেই জিততে হবে। আমি এটা বিশ্বাস করি না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ড আরও ভালো খেলবে— এই আশা আমি এখনো ছেড়ে দিইনি।
বক্সিংয়ের একটা পুরনো প্রবাদ আছে— ‘স্টাইলই লড়াইয়ের ধরন ঠিক করে দেয়’। ঘোড়দৌড়েও বলা হয়, ‘সব ঘোড়া সব ট্র্যাকে সমান চলে না’। ফুটবলও এর চেয়ে আলাদা কিছু নয়। কিছু প্রতিপক্ষ আপনার খেলার ধরনের সঙ্গে মানানসই হয়, আবার কিছু প্রতিপক্ষ হয় না। ইংল্যান্ড এই টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ সময় এমন সব দলের মুখোমুখি হয়েছে, যাদের খেলা শুরু হওয়ার আগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল যে ইংল্যান্ড সহজেই জিতবে। এটি এক ধরনের ভিন্ন চাপ তৈরি করে এবং ম্যাচের ভেতরে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি এমন হবে না। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তাদের দলে লিওনেল মেসি আছে, এটাই ভয়ের। তারা আক্রমণ করবে। তারা আক্রমণে শক্তি বাড়াবে। এটি ইংল্যান্ডের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে— আপনি যত ভালো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন, নিজের সেরাটা তত বেশি বের হয়ে আসবে।
এই ম্যাচটি ভিন্ন কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেবে। এখানকার ফাঁকা জায়গাগুলো আলাদা হবে। গতি আলাদা হবে। এ কারণেই আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা ইংল্যান্ডের এমন একটি রূপ দেখতে পাব, যা আমরা এই টুর্নামেন্টে আগে দেখিনি।
মনে রাখবেন, আর্জেন্টিনাও তুলনামূলক সহজ পথ পেরিয়ে এখানে এসেছে। এ পর্যন্ত আসতে তাদের অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে, ভাগ্যের ছোঁয়া লেগেছে এবং বেশ ভালোই ধুঁকতে হয়েছে। কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে হারাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তাদের মেসি বা হুলিয়ান আলভারেসের ওপর নির্ভর করা আর ইংল্যান্ডের বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের ওপর নির্ভর করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আমার বিশ্বাস, আটলান্টায় আমরা বেলিংহামের খেলার আরেকটি অন্য ধাপ দেখতে পাব। যদি কোনো খেলোয়াড় এই বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, তবে সেটি হবে সে-ই। আমাদের শুধু প্রয়োজন বাকি সবাই যেন তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলে। কেইন তো ভরসা দিচ্ছেনই— কিন্তু উইঙ্গাররা কি অবশেষে গোল করে অবদান রাখতে পারবে? মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা কি মাত্র কয়েকটি পাসের চেয়েও বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে?
এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের যা খেলা দেখেছি, তাতে আমি খুব একটা মুগ্ধ নই। তবে ফুটবল কীভাবে চলে, তাও আমি জানি। বড় ম্যাচগুলো সবসময় বড় পারফরম্যান্স নিয়ে আসে, বিশেষ করে বড় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। আর এ কারণেই নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্সকে চিনি দিয়ে মিষ্টি করার চেষ্টা না করে টুখেল একদম সঠিক কাজটিই করেছেন। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও ভালো খেলার আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তার খেলোয়াড়দের আড়াল করার বা আগলে রাখার প্রয়োজন ছিল না। তাদের শুধু মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার ছিল যে, আমাদের খেলার মান আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যেতে হবে। সমালোচনা মানেই সবসময় সতর্কবার্তা নয়। মাঝে মাঝে এটি একটি চ্যালেঞ্জও বটে। আর্জেন্টিনা ম্যাচে ইংল্যান্ড সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পারে।




