খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কোর্তোয়া, শোনেননি কোচ

সংগৃহীত ছবি
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে ঊরুর পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বেলজিয়ামের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তিনি কিছুক্ষণ খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়েন। বদলি গোলরক্ষক লামেন্সের মাঠে নামাটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় বেলজিয়ামের জন্য। পাউ কুবার্সির শট ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মেরিনো, লস অ্যাঞ্জেলেসে ২-১ গোলে হারে বেলজিয়াম।
মাঠে থাকার সামর্থ্য থাকলেও কোচ রুদি গার্সিয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেন কোর্তোয়া। কোচ বাকি সময়ের জন্য আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় চোটের পুরো ঘটনা তুলে ধরেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক, ‘মাঠ ছাড়াটা সত্যিই দুঃখজনক। এটা একটা বিশেষ ম্যাচ ছিল। আমি ভালোই অনুভব করছিলাম। দুটো গোল-কিক নিয়েছিলাম। দ্বিতীয়টার সময় ঊরুতে একটু বেশি ব্যথা অনুভব করি। তখন তাদের জানিয়ে দিই যে আর লম্বা কিক নিতে পারব না।‘
আক্ষেপ থাকলেও কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন বলে জানান কোর্তোয়া, ‘আমি চাইলে গোলে থেকে যেতে পারতাম। কিন্তু কোচ আমাকে বলেছিলেন, শতভাগ সুস্থ বোধ না করলে তিনি আমাকে তুলে নেবেন। আমি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে কোনো সমস্যা নেই, দলই সবকিছুর ঊর্ধ্বে।‘
মাত্র তৃতীয়বারের মতো জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামা লামেন্সের একটি ভুলের কারণে স্পেন ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোলটি পায়। তা সত্ত্বেও ড্রেসিংরুমে স্বদেশী এই গোলরক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিজের নেতৃত্বগুণের পরিচয় দেন কোর্তোয়া। লামেন্সের পক্ষে পুরোপুরি সাফাই গান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা, ‘বলটা ধরে রাখতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক। ম্যাচ শেষে আমরা গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরেছি। লামেন্স একজন দুর্দান্ত গোলরক্ষক। এটা তিক্ত অভিজ্ঞতা, কিন্তু এই ধরনের মুহূর্তই মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। আমরাই একমাত্র দল যারা স্পেনের বিপক্ষে গোল করেছি, যারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় ফেভারিট।"
জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবনার কথা জানিয়েছেন কর্তোয়া, ‘দলের সঙ্গে এই টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতাটা দারুণভাবে উপভোগ করেছি। আমি খুশি। দেখা যাক কী হয়। কোচ এবং ভিনসেন্টের সঙ্গে মিলে আমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।‘




