যুদ্ধের মাঝেই শত্রু দেশে খেলবে ইরান

বিশ্বকাপের বয়স ৯৬ হয়ে গেছে। প্রায় শতাব্দী ছুঁইছুঁই এই পরিক্রমায় রাজনীতি কতবারই তো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটবল মাঠে। আধুনিক ফুটবলের সূতিকাগার মনে করা হয় ইংল্যান্ডকে, অথচ বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের কোনো দলই খেলতে যায়নি। চিলির স্বৈরশাসকের বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া মাঠে খেলতে যেতে চায়নি সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৬৬-এর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলো। কিন্তু যুদ্ধে লিপ্ত দুটি দেশ, যাদের একটি বিশ্বকাপের আয়োজক এবং সেই দেশে খেলতে গেছে যুদ্ধের ময়দানের প্রতিপক্ষ, সেজন্য নেই রাত্রিবাসের অনুমতি; এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখা যায়নি আগে! ইরান অনুশীলন করছে মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। সেখান থেকে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলে আবার সেদিনই মেক্সিকো ফিরে যেতে হবে ইরান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের।
যে মাঠটা মেক্সিকোর স্থানীয় সমর্থক ও ক্লাব কর্মকর্তারা অপছন্দ করতেন দূরত্বের জন্য, সেটাই হয়ে গেছে ইরানের এ বিশ্বকাপের বেসক্যাম্প বা আবাসস্থল। অথচ ইরান ফুটবল দল তাদের বেসক্যাম্প হিসেবে ঠিক করে রেখেছিল টাকসন, অ্যারিজোনার কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্স, যেখানে পেশাদার ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতির জন্য সব আয়োজন ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ’ নিয়মের কারণে ইরান ফুটবল দলকে ম্যাচের আগের দিন সীমান্ত পার করার অনুমতি দেওয়া হবে আর ম্যাচ খেলে সেদিনই ফিরে আসতে হবে মেক্সিকোয়।
যে মাঠটা মেক্সিকোর স্থানীয় সমর্থক ও ক্লাব কর্মকর্তারা অপছন্দ করতেন দূরত্বের জন্য, সেটাই হয়ে গেছে ইরানের এ বিশ্বকাপের বেসক্যাম্প বা আবাসস্থল
তিহুয়ানা ক্লাবের কর্মকর্তাদের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফিফা জানায় যে, এখানে ইরান দল থাকবে। দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে জায়গাটাকে ইরান দলের থাকা ও অনুশীলনের উপযোগী করেছেন ক্লাবের কর্মীরা। এই অনুশীলন কেন্দ্রে প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ মাত্র একটা। সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নিরাপত্তার কড়াকড়ি। দলের খেলোয়াড়রা যদিও কাছেধারের এক হোটেলে আছেন, তবুও এ স্থাপনায় প্রবেশে বারবার অনুমতিপত্র যাচাই করে দেখছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা। এ ছাড়া তথ্যের অভাব, সূচি নিয়ে গোলমাল, যোগাযোগের সংকট এসব তো রয়েছেই।
‘যুক্তরাষ্ট্র যা করল, তাতে আমার লজ্জাই লাগছে। তারা সবাইকে সন্ত্রাসী মনে করে, এটা ভুল’— বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন মেক্সিকোর একজন ফুটবলপ্রেমী। ইরানের জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা গণযোগাযোগ বিভাগের কোনো কর্মীরই ভিসা হয়নি, তাদের অনুপস্থিতিতে দলের জার্সি গুছিয়ে রাখা যার কাজ সেই কিটম্যানই সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্ব পালন করবেন। খেলোয়াড়দের অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনের বাইরে কথা বলা নিষেধ।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি, একদিকে দেশের সরকারের নিয়মকানুন; দুইয়ের জাঁতাকলে মাঠে ইরানের ফুটবলারদের মনোযোগ ধরে রাখাই কঠিন। এমন বাস্তবতাতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে এশিয়ার অন্যতম সেরা দলটি।


