স্কালোনি
আমরা আগুনে ঘি ঢালতে আসিনি

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের আমেজ থাকলেও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচটিকে দেখছেন স্রেফ ‘ফুটবলের লড়াই’ হিসেবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি তার দলের দর্শন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। বড় দলের বিপক্ষে খেলতে না হলেও নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে ধুঁকতে হয়েছে মেসিদের। এ বিষয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও জেদ আছে। তবে এখন আমাদের সেই চেনা ছন্দে ফিরতে হবে, যা আমাদের শক্তির জায়গা ছিল। আমরা চাই নিজেদের সহজাত সেই সুন্দর ফুটবল উপহার দিতে। বাকি বিষয়গুলো আমার কাছে গৌণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে আমরা খুব একটা খারাপ করিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছানো কখনোই সহজ নয়, কষ্ট স্বীকার করতে হয়। গত বিশ্বকাপেও আমরা অনেক সময় ভুগেছি, কিন্তু সফল হয়েছি। এই প্রতিকূলতা জয় করাই আমাদের বৈশিষ্ট্য।’
ইংল্যান্ড দলের শক্তি সম্পর্কে সচেতন স্কালোনি জানান, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো খেলোয়াড়দের যেকোনো কোচই দলে পেতে চাইবেন। তাদের সামলাতে আর্জেন্টিনা সেরা শক্তি নিয়েই মাঠে নামবে। ইতিহাস ও রাজনৈতিক আবেগের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সতর্ক। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রেশ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আগুনের মধ্যে ঘি ঢালতে আসিনি। এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। ৪০ বছর আগে যা ঘটেছে, তা নিয়ে আমরা এখানে নতুন করে কিছু করতে পারব না। সেটি আমাদের ইতিহাসের অংশ, তবে সেটির সঙ্গে বর্তমান ফুটবল ম্যাচকে গুলিয়ে ফেলা ভুল হবে। যারা ওই সময় ভুগেছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি—মাঠের লড়াইটা শুধুই ফুটবলের।’ আর্জেন্টাইন কোচ আবারও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার শিষ্যদের, যারা দলের কঠিন সময়েও হাল ছাড়েননি। একইসঙ্গে বাংলাদেশহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টিনা সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। একদিকে মেসি-আলভারেসদের আক্রমণভাগ, অন্যদিকে বেলিংহাম-কেইনদের গতি। জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশায় ফুটবলবিশ্ব।






