আইমার : মেসি আমাকে আইডল মানত শুনে বুকটা ভরে ওঠে

আইমারকে আদর্শ মানতেন মেসি। ছবি: সংগৃহীত
নতুন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনা জুড়ে একটা সময় চলত এই খোঁজ। এখন শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বব্যাপীই চলে নতুন মেসির খোঁজ। কিন্তু মেসি শৈশবে আদর্শ মানতেন কাকে? ম্যারাডোনা নন তিনি পাবলো আইমার।
মেসির শৈশবে ‘এল পায়াসো’ (আইমারের ডাকনাম) রিভার প্লেটের ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতেন।
আর্জেন্টিনার যুব দলের খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল আইমারের।
মেসির সেই মুগ্ধতা আজও ফুরিয়ে যায়নি, বরং রূপ বদলেছে মাত্র। মেসি-আইমার ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ এবং ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায় একসঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছিলেন। আইমার যখন ভ্যালেন্সিয়ায় খেলতেন এবং ‘লা পুলগা’ (মেসির ডাকনাম) যখন বার্সেলোনায় মাত্র নিজের ক্যারিয়ার শুরু করছিলেন, তখন তাঁরা মাঠে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবেও মুখোমুখি হয়েছিলেন। আর এখন তারা আবারও একই স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন।
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির সহকারী হিসেবে অনেক দিন ধরেই দায়িত্ব পালন করছেন আইমার। মেসির আইডল ছিলেন, এ নিয়ে এখনও গর্ব হয় তার। কোচ হওয়ার পর মেসিকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সময় যতই গড়াচ্ছে, মেসি যেন নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর মতো সতেজতা নিয়ে খেলে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইমার জানালেন,‘মেসি আমাদের অবিশ্বাস্য সব কিছু প্রত্যাশা করতে শিখিয়েছে।’
ফিফাকে আইমার আরও বলেছেন, ‘আমি মেসির আইডল ছিলাম—এই ভাবনাটিই আমাকে অসম্ভব গর্বিত করে। আমি একবার পড়েছিলাম যে জিনেদিন জিদান এনজো ফ্রান্সেসকোলি সম্পর্কে একই রকম কথা বলেছিলেন। তখন আমি ভেবেছিলাম, এমন একজন অসাধারণ খেলোয়াড় যখন নিজের সম্পর্কে এত উঁচু ধারণা পোষণ করেন, তখন তাঁর (ফ্রান্সেসকোলির) কেমন অনুভূতি হয়েছিল? আজ মেসির মুখে এই কথা শুনতে পেরে আমার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে।’
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা একসাথে খেলেছি এবং পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ হিসেবেও একে অপরের মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের মধ্যে এক ধরনের না বলা বোঝাপড়া রয়েছে। আমি তাকে কেবল তার ফুটবলীয় দক্ষতার জন্যই নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে ও কেমন, সেটির জন্যও গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি।’
আর্জেন্টিনার যুব দলগুলোরও দায়িত্বে থাকা আইমার বলেন, ‘মেসি মাঠে যা করে তা হুবহু নকল করা কঠিন, তবে চাপের মুখে বড় ম্যাচগুলোতে এই কাজ করা আরও অনেক বেশি কঠিন। আর্জেন্টিনার সঙ্গে বেশ কয়েক বছর কাটানোর পর এখন দলের সবাই অনুভব করে যে—এটিই সেই জায়গা যেখানে আমরা থাকতে চেয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি এবং মানসিকতার পুরস্কার আজ আমরা ট্রফির আকারে পেয়েছি। এর চেয়ে চমৎকার আর কিছু হতে পারে কি না আমার জানা নেই। এটি আমাদের অসীম আনন্দ দেয়।’




