রাফিনিয়ার চোটে কার ভাগ্য খুলবে?

সংগৃহীত ছবি
হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয়ের আনন্দের আবহ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল দল। চোটে পড়ে অন্তত আগামী দুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন দলের প্রধান রাইট উইঙ্গার রাফিনিয়া, যা প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সেইসঙ্গে দলের ডান প্রান্তের আক্রমণের জায়গাটি নিয়ে তৈরি করেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। সেই লড়াইয়ে আছেন তিন তরুণ তুর্কি- লুইস হেনরিকে, রাইয়ান এবং এনদ্রিক।
রাফিনিয়ার জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লুইস হেনরিকে ও রাইয়ান। ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাজিলের হয়ে চার ম্যাচে ডান প্রান্তে শুরুর একাদশে খেলেছেন লুইস হেনরিকে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ব্যবহার করা হলেও হাইতির বিপক্ষে অবশ্য বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছিল এই ফরোয়ার্ডকে।
অন্যদিকে গত শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে রাফিনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তরুণ রাইয়ান। ম্যাচের পর আনচেলত্তির কণ্ঠেও ঝরেছে এই তরুণের প্রশংসা, ‘আমি হাইতি ম্যাচে রাইয়ানকে নামিয়েছিলাম কারণ ও দারুণ ফুটবল খেলছে। রাফিনিয়ার চেয়ে ওর খেলার ধরন আলাদা। আসলে কোন খেলোয়াড় মাঠে নামবে, তা নির্ধারণ করে খুব ছোট ছোট কিছু কৌশলগত দিক। সেই খুঁটিনাটি বিবেচনা করেই আমি রাইয়ানকে বেছে নিয়েছিলাম।’
এই দৌড়ে তৃতীয় এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় নামটি হলো এনদ্রিক। পালমেইরাস এবং বর্তমানে অলিম্পিক লিওঁর হয়ে ডান প্রান্তে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই বিস্ময় বালকের। তবে এনদ্রিকের খেলার ধরনের কারণে উইঙ্গার হিসেবে লড়াইয়ে তিনি কিছুটা পিছিয়েই থাকছেন। আনচেলত্তি এ যাবৎ এনদ্রিককে উইঙ্গার হিসেবে না খেলিয়ে মূলত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড বা ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবেই বেশি ব্যবহার করেছেন।
এনদ্রিক সাইডলাইন ধরে খেলার চেয়ে কাট-ইন করে ডি-বক্সের দিকে ঢুকতে বেশি পছন্দ করেন। তাছাড়া রক্ষণভাগে নিচে নেমে সাহায্য করার চেয়ে গোলপোস্টের কাছাকাছিই তিনি বেশি কার্যকর। গত সপ্তাহের অনুশীলনেও আনচেলত্তি রাইয়ান ও লুইস হেনরিকেকে ডান প্রান্তে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখলেও এনদ্রিককে খেলিয়েছেন সেন্ট্রাল পজিশনেই।
শনিবারের ছুটি কাটিয়ে আজ রবিবার থেকেই ফের পুরোদমে অনুশীলনে নামছে সেলেসাওরা। বুধবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে রাফিনিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজে নিতে আনচেলত্তি সময় পাচ্ছেন আর মাত্র তিনটি সেশন। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগামী ২৫ জুন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়। স্কটিশ রক্ষণ ভাঙতে আনচেলত্তি কাকে ব্যবহার করেন- সেটাই দেখার।






