ব্রাজিলে ফুটবল এনেছিল স্কটল্যান্ড

সংগৃহীত ছবি
তাদের রক্তে মিশে আছে ফুটবল। ব্রাজিলের শিশুরা নাকি হাটার আগে শেখে ফুটবল খেলা। কিন্তু কীভাবে ফুটবল এত জনপ্রিয় হলো সমুদ্রপাড়ের দেশটিতে? যদি বলা হয়, সুদূর ইউরোপ থেকে আসা এক ব্যক্তিই ব্রাজিল উপহার দিয়েছিলেন ফুটবল নামক জাদুকরী এক খেলার!
এক জোড়া ফুটবল বুট, দুটি চামড়ার বল, একটি পাম্প এবং ফুটবলের নিয়মাবলির একটি কপি। চার্লস মিলার হয়তো কল্পনাতেও ভাবেননি, এই অল্প কিছু জিনিসই বদলে দেবে পুরো ফুটবল দুনিয়ার ইতিহাস।
স্কটল্যান্ডের নাগরিক চার্লসের হাত ধরেই ব্রাজিলের মাটিতে প্রথমবার আয়োজন করা হয় ফুটবল ম্যাচ। আবহাওয়া, ভাষা, খাবার কিংবা প্রিয় পানীয়; ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে দূর দূরান্তে কোন মিল নেই। তাহলে কীভাবে এই স্কটিশ নাগরিক হয়ে উঠলেন ব্রাজিলের ফুটবলের জনক?
বড় ভাই অ্যান্ড্রুর সঙ্গে চার্লসের বাবা জন মিলার ১৮৬০-এর দশকে পাড়ি জমান ব্রাজিলে, স্বপ্ন ছিল একটু বেশি আয়ের। কাজ করতেন সাও পাওলো রেলওয়েতে। এই রেলওয়ে যুক্ত করেছিল সান্তোস ও জুনদিয়াইকে। ১৮৭৪ সালের ২৪ নভেম্বর সাও পাওলোর ব্রাস অঞ্চলে জন্ম চার্লসের।
৯ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে চলে যান চার্লস। সেখানেই তার ফুটবলের হাতেখড়ি। সেন্ট মেরিজ ও করিন্থিয়ান ফুটবল ক্লাবে খেলেছেন নিয়মিতই। পরে করিন্থিয়ান ক্লাব থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব করিন্থিয়ান্স প্রতিষ্ঠিত হয়।
১০ বছর পর ব্রাজিলে ফিরে এসে চার্লস ব্রিটিশ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ফুটবল খেলতে উৎসাহিত করেন। ১৮৯৫ সালের ১৪ এপ্রিল সাও পাওলোর ভারজিয়া দু কার্মো এলাকায় তিনি এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করেন, যেটিকে ব্রাজিলের ইতিহাসের প্রথম ফুটবল ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়। সাও পাওলো রেলওয়ের কর্মীদের দলে খেলেছিলেন তিনি নিজেও। সেই দলটি গ্যাস কোম্পানির কর্মীদের ৪-২ গোলে হারায়।
সেই শুরু। এরপর সাও পাওলো থেকে ফুটবল নামের উন্মাদনা ছড়িয়ে পরে পুরো দেশে। সাও পাওলো অ্যাথলেটিক ক্লাবের হয়ে চার্লস ১৯০২ থেকে ১৯০৪ পর্যন্ত প্রথম তিনটি কাম্পেওনাতো পাউলিস্তা জেতেন। ১৯০২ ও ১৯০৪ সালে তিনি ছিলেন প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা।
চার্লস যে পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন, সেটাই এখন লাতিন আমেরিকার দেশটির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার জায়গা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলই একমাত্র দল, যারা সবকয়টি আসরে অংশ নিয়েছে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৫ বারের চ্যাম্পিয়নও তারাই।
চার্লসকে কিন্তু ভোলেনি ব্রাজিল। পাকায়েম্বু স্টেডিয়ামের বাইরে আছে তার নামের স্কয়ার।
যে দেশের হাত ধরে ব্রাজিলে এসেছিল ফুটবল, বিশ্বকাপে সেই স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এর আগেও ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। কখনোই ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি স্কটিশরা। বিশ্বকাপের ৪ দেখায় তিনবার জিতেছে সেলেসাওরা।
যে ব্রাজিলকে ফুটবল শিখিয়েছে স্কটিশরা, শত বছর পর তারাই কি সবচেয়ে বড় মঞ্চে হারিয়ে দেবে সেলেসাওদের?





