স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মন্তব্যে বিএইচআরএফের তীব্র নিন্দা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মন্তব্যে বিএইচআরএফের তীব্র নিন্দা। ছবি: সংগৃহীত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে বিএইচআরএফ জানায়, স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সেবার মানহানি, রোগীর ভোগান্তি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সেবার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিক্রিয়ায় যে ধরনের বিদ্রূপাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা শুধু সাংবাদিক সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করেনি, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সংগঠনটির মতে, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য করা দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য কাম্য নয়। বরং এটি সমালোচনা গ্রহণের সক্ষমতা, জবাবদিহির সংস্কৃতি এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বিএইচআরএফ বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন, যা সাংবাদিকতা পেশার প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই শোভন, গ্রহণযোগ্য বা দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা কিংবা হেয় করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
বিএইচআরএফ আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের মানসিকতার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি সম্মানজনক ও পেশাদার অবস্থান নিশ্চিত করবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ এবং সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।




