আরেকটা রূপকথার প্রত্যাশায় লিভারপুল

সংগৃহীত ছবি
‘মিরাকল অব ইস্তাম্বুল’, অ্যানফিল্ড মিরাকল’; লিভারপুল সমর্থকদের চোখে এখনো ভাসে এই দুই রূপকথার গল্প। চ্যাম্পিয়নস লিগে অনেক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেও এই দুই ম্যাচের স্মৃতি এখনো চির অম্লান অল রেডদের মনে। এবারের কোয়ার্টার ফাইনালেও হয়তো এরকম কিছুই করে দেখাতে হবে আরনে স্লটের দলকে।
২০০৫ সালের ফাইনালে বিরতির আগেই এসি মিলান এগিয়ে ৩-০ ব্যবধানে। ইস্তাম্বুলে ততক্ষণে হাল ছেড়ে দিয়েছেন লিভারপুল সমর্থকরা। স্টিভেন জেরার্ডরা অবশ্য হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না। ৬ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল ফিরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে সমতা ফেরায় জেরার্ডের দল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে মিলানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা ঘরে তোলে লিভারপুল।
লিভারপুলের এমন রূপকথা ইউরোপ দেখেছে ২০১৯ সালেও। সেবার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনার কাছে ক্যাম্প ন্যুতে ৩-০ গোলে হেরেছিল অল রেডরা। অ্যানফিল্ডের দ্বিতীয় লেগের আগে ইনজুরিতে পড়ে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন দলের দুই মূল তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও রবার্তো ফিরমিনো।
সালাহ-ফিরমিনোকে ছাড়াই সেবার মেসিদের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে লিভারপুল। বার্সাকে দ্বিতীয় লেগে ৪-০ গোলে হারিয়ে পায় ফাইনালের টিকিট।
এবারও অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। পিএসজির মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে আর্নে স্লটের দল। পিছিয়ে থাকলেও লিভারপুল কোচ স্লট অবশ্য এখনই হাল ছাড়তে রাজি নন।
পার্ক দি প্রিন্সে ৯০ মিনিটে লিভারপুলের ফুটবলাররা প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের দিকে শট নিয়েছেন মাত্র তিনটি। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, কিন্তু লক্ষ্যে নেই একটিও শট!
২০২০ সালের নভেম্বরে আতালান্তার বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি অল রেডরা।
ম্যাচজুড়ে দলের হতশ্রী দশার কথা স্বীকার করে স্লট জানালেন, জয়ের চেয়ে ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইটাই বেশি করেছে তার দল, ‘ম্যাচের বড় একটা অংশ জুড়েই আমরা টিকে থাকার লড়াই করেছি। পিএসজি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছে। আমরা তবুও হাল ছাড়িনি, এজন্যই এখনো সেমির আশা শেষ হয়ে যায়নি।'
দ্বিতীয় লেগে মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি লিভারপুল-পিএসজি। নিজেদের মাঠে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্লট, ‘অ্যানফিল্ডে আমরা বরাবরই দারুণ পারফর্ম করি। হতে পারে ১০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল শোধ হয়ে যাবে। সমর্থকরা আমাদের পাশে থাকবেন। ভালো পারফর্ম করলে দুই গোলে পিছিয়ে থাকলেও সেমিফাইনালে পৌঁছানো সম্ভব।‘















