জয়ের সঙ্গে দুশ্চিন্তাও সঙ্গী ব্রাজিলের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল টিকিট পেয়েছে খুঁড়িয়ে। একটা সময় শঙ্কা জেগেছিল সেরা ছয়ে না থাকারও! বিশ্বকাপ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তখন নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আলো ছড়াতে শুরু করেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। দেশ ছাড়ার আগে মারাকানায় পানামাকে ৬-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচে মিসরকেও ২-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। বিশ্বকাপের আগে এটিই ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ।
জয় পেলেও ইনজুরি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ব্রাজিল কোচ। মিসরের বিপক্ষে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেই বাঁ কুঁচকির ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাইটব্যাক ওয়েসলিকে। ম্যাচের পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোমায় খেলা ওয়েসলি বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন এবারই। চোটের কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় ডাগআউটে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা। আনচেলত্তি এ নিয়ে ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ‘ওয়েসলির পেশিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রবিবার তার ডায়াগনসিস রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এটি খুবই দুঃখজনক। তবে সে যদি সময়মতো সুস্থ হতে না পারে, আমাদের অন্য কাউকে বেছে নিতে হবে। দানিলো যেকোনো পজিশনে খেলতে পারে, রাইটব্যাকে ও আমাদের বড় ভরসা। এ ছাড়া ইবানেজও পানামার বিপক্ষে এই পজিশনে খেলেছে। আমাদের বেঞ্চে যে বিকল্প আছে, তা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।’
বাস্তবতা হচ্ছে ওয়েসলি ডানপ্রান্তে যতটা আক্রমণাত্মক, দানিলো ততটা নন। এরই প্রভাব পড়েছে মিসরের বিপক্ষে। রাফিনিয়া আর পাকেতা পুরো ফিট না থাকায় দুজনকে বেশি দেখা গেছে মাঝমাঠেই। ব্রুনো গিমারেস খেলেছেন নিজের সেরাটা। ড্রিবলিং, পাসিং সবই ছিল অসাধারণ। সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলের প্রথম গোলটাও করেছিলেন তিনি। ডি-বক্সের একটু সামনে গোলকিপারের পাস পেয়ে মিসরের মোহানাদ লাশিন ধরে রেখেছিলেন বল। তার পা থেকে বল কেড়ে বক্সে ঢুকে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন গিমারেস।
১১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক মার্কিনিয়োস ব্যাকপাস দেন গোলকিপারকে। বলে গতি না থাকায় গোলকিপারের কাছে বল পৌঁছানোর আগে ছুটে গিয়ে গোল করেন জিকো। এমন অমার্জনীয় ভুলটা হয়েছে পিএসজি থেকে জাতীয় দলে ফিরে সবার সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় না হওয়ায়।
বিরতির পর দলে ৯টি পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। ৫২ মিনিটে রাফিনিয়ার পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুসের বদলি নামা এনদ্রিক। এই তরুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আনচেলত্তি, ‘এনদ্রিকের গোল করার সহজাত ক্ষমতা অসাধারণ। সে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। তবে ম্যাথিউস কুনিয়ার মতো খেলোয়াড়দের অবদানও কম নয়। সে হয়তো এনদ্রিকের মতো ফিনিশ করতে পারে না, কিন্তু বিল্ড-আপ গেমে দারুণ সাহায্য করে।’
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ৫০.৯ শতাংশ বলের দখল রেখে পোস্টে ১২টি শট নিয়েছিল ব্রাজিল। লক্ষ্যে ছিল সাতটি। মিসরের গোলকিপার চারটি সেভ না করলে জয়ের ব্যবধান বড় হতে পারত ব্রাজিলের। মিসর গোলের জন্য পাঁচটি শট নিয়ে লক্ষ্যে রেখেছিল দুটি। মোহামেদ সালাহ বিরতির পর নেমেও ছাপ রাখতে পারেননি তেমন।
চোট আর ফিটনেস সমস্যা মাথায় নিয়ে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের প্রথম ম্যাচের একাদশ চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি, ‘মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য আমার শুরুর একাদশ তৈরি। আমার মাথায় একদম পরিষ্কার ধারণা আছে। আজ মাঠে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়া জুটি দুর্দান্ত খেলেছে। তাদের চমৎকার বোঝাপড়ার কারণেই আমরা গোল করার অনেক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’
ব্রাজিলের হেক্সা অভিযান শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ১৯ জুন হাইতি ও ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।




