বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে রাতারাতি বিখ্যাত নিউজিল্যান্ডের টিম পেইন

সংগৃহীত ছবি
আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মাঠে গড়াবে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চে তারকা ফুটবলারদের নিয়ে যখন মাতামাতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার টিম পেইন। এক আর্জেন্টাইন ইনফ্লুয়েন্সারের কল্যাণে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি মহাতারকা বনে গেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। কয়েক দিনের ব্যবধানে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ৫ হাজার থেকে লাফিয়ে ১.৪ মিলিয়নে গিয়ে ঠেকেছে।
পেইনের এই অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছেন ভ্যালেন স্কারসিনি নামের এক আর্জেন্টাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি অনলাইন দুনিয়ায় ‘এলস্কারসো’ নামে পরিচিত। তিনি এবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে ‘কম পরিচিত’ বা ‘অখ্যাত’ খেলোয়াড়কে খুঁজে বের করার এক অভিনব মিশন শুরু করেছিলেন।
টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভ্যালেন স্কারসিনির লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে। গত বুধবার তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, 'আমি এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের স্কোয়াড ঘেঁটে সবচেয়ে অপরিচিত খেলোয়াড়টিকে খুঁজছিলাম। একে একে সবাইকে বিশ্লেষণ করার পর অবশেষে তাঁকে পেয়েছি। গ্রুপ জি-তে থাকা নিউজিল্যান্ডের টিম পেইনই হলেন এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে অপরিচিত ফুটবলার। তার অনুসারীর সংখ্যা ৫ হাজারও নয়।'
ভিডিওতে স্কারসিনি তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, জাতীয়তার ভেদাভেদ ভুলে সবাই যেন নিউজিল্যান্ডের এই ডিফেন্ডারকে সমর্থন করেন এবং তাকে বিশ্বকাপের ‘মূল নায়ক’ বানিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'টিম পেইনের অ্যাকাউন্টে গিয়ে ফলো করুন এবং তাঁর পোস্টে লাইক-কমেন্টের বন্যা বইয়ে দিন। সব জায়গায় শুধু টিম পেইনের নাম ছড়িয়ে দিন। প্যানিনি বিশ্বকাপ স্টিকার অ্যালবামে যার কাছে তাঁ?র স্টিকার আছে, ছবি তুলে আপলোড করুন।'
স্কারসিনির এই ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখের বেশি মানুষ এটি দেখেন। ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলপ্রেমীরা তো টিম পেইনের নাম দিয়ে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ‘মুচাচোস’ গানের আদলে একটি নতুন গানও বানিয়ে ফেলেছেন!
হঠাৎ অনুসারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ায় টিম পেইন এখন নিউজিল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার পাওয়া খেলোয়াড়। তিনি নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্রিস উড (১ লাখ ৬২ হাজার) এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সম্মিলিত ফলোয়ার সংখ্যাকেও অনায়াসে ছাড়িয়ে গেছেন। গত মার্চে নিউজিল্যান্ডের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলার একটি পোস্টে হঠাৎ করেই ৫০ হাজারেরও বেশি কমেন্ট জমা পড়ে।
ফ্লোরিডায় দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকে টিম পেইন নিজেই এক ভিডিও বার্তায় এই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ভিডিওর শুরুতে ভাঙা ভাঙা স্প্যানিশ ভাষায় পেইন বলেন, 'আমার স্প্যানিশের জন্য ক্ষমা করবেন, আমি এখনো ডুওলিঙ্গো অ্যাপে এটি শিখছি।'
এরপর ইংরেজিতে তিনি যোগ করেন, 'আমি ভ্যালেনকে একটা বড় ধন্যবাদ জানাতে চাই। গত ৪৮ ঘণ্টা আমার জীবনে এক কথায় অবিশ্বাস্য ও পাগলামিতে ভরা কেটেছে। এই বিশ্বকাপে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং বিশ্বজুড়ে মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিচ্ছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মুচাস গ্রাসিয়াস (আপনাদের অনেক ধন্যবাদ)।'
ওয়েলিংটন ফিনিক্সের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম পেইন নিউজিল্যান্ডের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশটি। এবারের বিশ্বকাপের সর্বনিম্ন র্যাংকিংয়ের দল হিসেবে ‘গ্রুপ জি’-তে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইরান, মিশর ও বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড এর আগে কখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। এবার মাঠের লড়াইয়ের আগেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ইতিহাস গড়ে ফেলা টিম পেইন কি পারবেন নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয় এনে দিয়ে সত্যি সত্যিই বিশ্বমঞ্চের ‘আসল হিরো’ হতে? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা রইল।






