বাংলাদেশের ফুটবল অগ্রগতিতে ‘ইমপ্রেসড’ ফিফা সভাপতি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ছবি: বাফুফে
হঠাৎ
বাংলাদেশে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার অফিসিয়াল কোনো সফর নয়, ভুটান যাওয়ার
পথে ট্রান্সজিট নিয়েছেন ঢাকায়। সেই সুযোগে বাফুফের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে খানিকটা সময়
কাটিয়ে গেছেন ইনফান্তিনো। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে তার। সেই
আলোচনার বিষয়বস্তু কী ছিল— সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।
প্রশ্ন: হঠাৎই ঢাকায় এলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাফুফে থেকে আপনারা দেখা করতে গেলেন তার সঙ্গে। তিনি কেন এসেছিলেন? আপনাদের কী কথা হয়েছে?
তাবিথ আউয়াল: ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো মরক্কোর রাবাত থেকে ভুটানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সে কারণে ঢাকাতে একটা ট্রানজিট হয়েছে। এয়ারক্রাফটটা বদলাতে হয়েছে। আমরা সবাই জানি, ভুটানে যেতে হলে স্পেশালাইজড এয়ারক্রাফট এবং স্পেশালাইজড পাইলট লাগে। ভুটান থেকে যে ক্রাফটটা এসেছে উনি ট্রান্সফার হয়ে সাড়ে ৩টার দিকে চলে গিয়েছেন। এই-দুই ঘণ্টা যে ট্রানজিটে ছিলেন, আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটা ডেলিগেশন তার সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা উনার সঙ্গে একটু কথা বলতে পেরেছি। তিনি আমাদের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছে। আমি মনে করি, অল ইন অল একটা খুব ভালো পরিবেশে আমরা মিটিংটা করতে পেরেছি।
প্রশ্ন: সেই মিটিংয়ে আসলে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে?
তাবিথ: দেখেন এটা শর্ট ট্রিপ, একটা আনঅফিসিয়াল ট্রিপ, তো এখানে অনেক আলোচনা হয় নাই। আমরা ডিসকাস করছি মূলত ফিউচারে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ আরও কীভাবে কাজ করতে পারে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছিলেন, আমাদের ফিফার আসিয়ান কাপে খেলার এক্সপেরিয়েন্সটা কেমন ছিল, এরকম টুর্নামেন্ট আরও আয়োজন করলে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে কিনা। আমাদের ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টি স্পোর্টসকে ধন্যবাদ জানাই, টি স্পোর্টস ওই সময় বাংলাদেশ বনাম সান ম্যারিনোর খেলাটা দেখাচ্ছিল। তো ওই খেলার প্রসঙ্গে কথা উঠেছিল। আমরা বলেছিলাম আমরা আরও ইউরোপিয়ান দেশে খেলতে চাই, ইউরোপেও খেলতে চাই। সেটা নিয়ে কথা হয়েছে, কীভাবে আমরা ফিফা উইন্ডোটাকে ওপেন করতে পারি, যাতে অন্য কনফেডারেশনগুলা একে অপরের সঙ্গে খেলতে পারে।
আমরা আরও ডিসকাস করেছি ফিফা থেকে ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় যে টাকাগুলো ডলারগুলো এখনও খরচ হয় নাই বা প্রজেক্টগুলো রেডি হচ্ছে, সেটার একটু গতি পেলে, ফিফা প্রেসিডেন্ট অফিশিয়ালি তখন আসতে চান প্রজেক্টগুলো ওপেন করার জন্য। আমি উনাকে ইনফর্ম করেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অলরেডি ১৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। স্পোর্টস মিনিস্ট্রি থেকে দুইটা স্টেডিয়াম ন পেয়েছি যেটাকে আমরা ম্যানেজ করব। এইসব ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের ফান্ডটাকে ইউজ করব। আশা করি, আগামী বছরের আগেই আমরা একটা ভালো উদ্যোগ দেখাতে পারব, যেটার জন্য ফিফা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে আসবেন।
প্রশ্ন: ৫ অক্টোবর আসিয়ান কাপের ফাইনালে ফিফা সভাপতির সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল। দুই সপ্তাহ পর আবার দেখা হলো। নেশনস লিগ নিয়ে কোনো আপডেট আছে কি? তাছাড়া ৩৫০ কোটি টাকার একটা বাজেটের কথাও শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়ে জানাবেন।
তাবিথ: নেশনস লিগ, স্পেসিফিক টুর্নামেন্ট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অ্যাজ আই সেইড আজকে অফিসিয়াল কোনো প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলিনি। তবে যে বাজেটটা বলেছেন, এই বাজেটটাই কিন্তু পার্ট অব আমাদের ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম। আপনারা জানেন যে, অনেক বছর ধরেই ফান্ডটাকে আমরা আটকে রেখেছি, কিন্তু ব্যবহার করতে পারিনি। আমি আশাবাদী এ বছর থেকেই আমরা ফান্ডটাকে ব্যবহার করতে পারব।
প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ফিফা সভাপতি অফিসিয়ালি আসবেন বাংলাদেশে। নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় কি উল্লেখ করে গেছেন ইনফান্তিনো?
তাবিথ: আমাদের টেকনিক্যাল সেন্টারের কাজ শুরু পারলে তখন বলতে পারব ফিফা প্রেসিডেন্ট আসবেন। অথবা সিলেটে একটা হাইব্রিড পিচ এস্টাবলিশ করার কথা, সেটা শুরু হয়ে গেছে। অথবা দুটি স্টেডিয়াম যেটা আমরা এখন ম্যানেজমেন্টের আন্ডারে নিয়েছি, সেটার মেরামতের কাজ শুরু হয়ে গেছে ইনক্লুডিং ফ্লাডলাইটস। যদি কোনো একটা প্রজেক্ট আমরা শুরু করতে পারি, তখন তো অফকোর্স অফিসিয়ালি আসার একটা কারণ থাকে। অ্যাট দ্য সেইম টাইম বাংলাদেশ যেভাবে ইউরোপে খেলছে, আসিয়ানে খেলছে, সেভাবে যদি আমরা কোনো ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ নিতে পারি বা আমাদের দেশে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারি যেটা ফিফা স্পন্সরড বা ফিফা সার্টিফাইড হবে, তখনও ফিফা প্রেসিডেন্ট আসতে পারেন। তো এই সময়টা অ্যাকচুয়ালি আমাদেরকেই নির্ধারণ করে দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ইজ রেডি টু কাম এনিটাইম।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রগতি নিয়ে ইনফান্তিনো বিশেষ কোনো মন্তব্য করেছেন কি?
তাবিথ: বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ইংল্যান্ড-ইতালিতে আমাদের ডায়াসপোরা আছে, তাদের কীভাবে আমরা ব্যবহার করতে পারি। আমাদের অনেক দর্শক বেইজ আছে মালয়েশিয়াতে, সৌদি আরবে; সেখানে যদি বাংলাদেশ খেলে কীভাবে আমরা দর্শকদেরকে আরেকটু আকর্ষণ করতে পারব, আকর্ষিত করতে পারব। আমরা অনেক উদাহরণ দিয়েছি কীভাবে স্টেডিয়ামগুলাতে সোলার পাওয়ার, রিনিউয়েবল এনার্জি ব্যবহার করা যায়।
প্রশ্ন: আগামী বছর ফিফার নির্বাচন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই ইনফান্তিনো। তার নির্বাচন কিংবা অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনা কি হয়েছে?
তাবিথ: না, আমরা এরকম ইলেকশন বা এরকম পলিটিক্যাল ইস্যুজ নিয়ে কোনো কথা বলিনি। আমরা মূলত ফুটবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। আমরা সবাই জানি, ফিফাতে যারা প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে চায়, ১৮ নভেম্বর নমিনেশনের তারিখ। তারা নমিনেশন সাবমিট করবে। তো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরাও বসে আছি এখন, অপেক্ষায় আছি ১৮ নভেম্বরে কারা কারা নমিনেশন ফর্ম ফিলআপ করে, সাবমিট করে ফিফা ইলেকশনের জন্য। তারপরে হয়তো আমরা আমাদের একটা নির্বাচিত অবস্থান নিতে পারব বা প্রকাশ করতে পারব। তার আগ পর্যন্ত আমরা মনে করি, একটা কমিটি বহাল আছে, ফিফা বহাল আছে, ফিফা কাউন্সিল বহাল আছে। আমরা আমাদের ২০২৬ সাল... ৩১ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত যে কাজগুলি দরকার, সেগুলো যেন কমপ্লিট করতে পারি।
প্রশ্ন: ভুটান থেকে ফেরার পথেও কি বাংলাদেশে আসবেন ইনফান্তিনো আসবেন?
তাবিথ: না, অফকোর্স। সিস্টেমটাই হলো ভুটান থেকে আসার পথে আবারও ফ্লাইট চেঞ্জ করতে হবে। ওই সময় ট্রানজিটটা খুবই কুইক হবে, কারণ আসার পথে যেই যাওয়ার প্লেন থাকবে সেটা রেডিমেড থাকবে। আজকে আপনারা জানেন যে প্লেনে এসেছে ওই প্লেন চলে যাওয়ার পরে ভুটানের প্লেনটা ল্যান্ডিং রাইটস পেয়েছে। তো আমাদের ওই বে-টা শেয়ার করতে হয়েছিল। বাট আসার দিন দুটো প্লেনই একসাথে থাকবে টারম্যাকে, আমি নিশ্চিত উনি কুইক ট্রানজিটে চলে যাবেন। আর তখন উনি টোকিও’র উদ্দেশ্যে যাবেন এএফসি কংগ্রেসে যোগ দিতে।
প্রশ্ন: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ইনফান্তিনোকে?
তাবিথ: না, সাফ নিয়ে আমরা উনাকে আমন্ত্রণ জানাইনি। কারণ আপনারা জানেন সাফ অর্গানাইজেশন নিজেই অর্গানাইজ করছে। সো আমন্ত্রণ জানালে সাফই অর্গানাইজ আমন্ত্রণ জানাবে।
প্রশ্ন: এই যে সংক্ষিপ্ত সফরে ইনফান্তিনো ট্রানজিট নিলেন বাংলাদেশে, আপনারা সবাই সাক্ষাৎ করলেন, তাতে কি বাংলাদেশের ফুটবল কিছুটা প্রেফার পেলো?
তাবিথ: আমি তো অনেস্টলি মনে করি, বাংলাদেশ ফুটবল অনেক প্রেফার পেয়েছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়াতে আমি ওয়ান অন ওয়ান মিটিং করেছি ফিফা প্রেসিডেন্টের সাথে। আজকে আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ আমরা মিটিং করতে পেরেছি, দুই-একটা কথা আমরা বলতে পেরেছি। আমি বিশ্বাস করি, যেই তথ্যগুলো উনি সরেজমিন থেকে নিয়ে যাচ্ছেন, হি ইজ গোয়িং টু বি ইমপ্রেসড যে আমাদের কাজে অগ্রগতি আছে। আমরাও আশা করি ফিফা থেকে আরও অ্যাসিস্টেন্স পাব, কারণ এক্সাইটমেন্টটা এখন তৈরি হয়ে গেছে।






