বাবাকেই অনুসরণ করতেন মেসি

সংগৃহীত ছবি
রোজারিওতে খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। রোজারিওর একটি মেটাল ওয়ার্কিং কারখানায় কাজ করতেন দীর্ঘ সময়। সেই সাত সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফিরতেন রাতে। তারপরও সন্তান লালনে তিনি ছিলেন আদর্শ পিতা। তাই মেসিও সন্তান লালনে অনুসরণ করেন নিজের বাবাকেই।
বাবার হাড়ভাঙা পরিশ্রম দেখে বড় হওয়া লিওনেল মেসি একবার বলেছিলেন,‘আমার মধ্যে বাবার অনেক গুণই আছে। তিনি সারা দিন কাজ করতেন, তাই আমাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারতেন না। ভোর ৪টায় উঠে কাজে যেতেন আর ফিরতেন রাতের খাবারের সময়। যখনই আমাদের দেখা হতো, তিনি সেই সময়টা উপভোগ করতেন। কখনোই আমাকে বকাঝকা করতেন না। আমি তাকে মিস করতাম। আজ আমি ভাগ্যবান যে আমার সন্তানদের অনেক বেশি সময় দিতে পারি। সন্তান মানুষ করার বেলায় আমি আমার বাবা-মাকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’
সেলিয়া কুকচিতিনির সঙ্গে সংসার বেঁধে চার সন্তানকে নিয়ে পরিবার গড়ে তোলেন হোর্হে। তার চার সন্তান- লিওনেল, রদ্রিগো, মাতিয়াস এবং মারিয়া সল। তাদের সাধারণ জীবনযাপন প্রচারের আলো থেকে ছিল অনেক দূরে। লাভালেজা স্ট্রিটের তাদের সাধারণ বাড়িটি চলত কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেই। লিওনেল মেসির তারকা হওয়ার পর ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে সেটা।
বাবা থেকে মেসির এজেন্ট আর ফুটবলের পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন হোর্হে। কিছুদিন আগে বাবাকে নিয়ে মেসি বলেছিলেন,‘ফুটবল নিয়ে আমি বাবার সঙ্গে প্রচুর কথা বলি। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি আমার পাশে ছিলেন। ম্যাচ শেষ করেই আমি তাকে টেক্সট করতাম অথবা কথা বলতাম। একদম ছোটবেলা থেকেই যেকোনো কাজে আমার বাবার সম্মতির প্রয়োজন হতো।’
বিশ্বসেরা হওয়ার পরও বাবার সেই দূরদর্শীতা সবসময় লিওনেলের সঙ্গেই ছিল। মেসি বলেছিলেন,‘বাবা আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তার গঠনমূলক সমালোচনা আমাকে সবসময় আরও উন্নত করার প্রেরণা দিত। তিনি এটাও জানেন যে, আমি নিজেই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। মায়ের চোখে আমি আবার সবসময়ই সেরা। এমনকি আমি খুব বাজে খেললেও! মায়ের কাছে মনে হতো আমি প্রতিটা ম্যাচেই ভালো খেলেছি আর আমার কোনো দোষ নেই। পৃথিবীর সব মায়ের মতোই উনি।’
পুরো বাণিজ্যিক কার্যক্রম সামলে মেসির জীবনে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছিলেন হোর্হে। তিনি বেশ কয়েকবার বলেছিলেন,‘আমাদের চেষ্টা থাকে লিও যেন কেবল খেলায় মনোযোগ দিতে পারে।’ তাই চুক্তি, স্পন্সর এবং অন্যান্য বিষয় ঘনিষ্ঠ অভিভাবক হয়েই সামলেছেন তিনি।
রোজারিওর কনকনে ভোরে কাজে যাওয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ম্যাচ শেষে খোলামেলা আলোচনা-জর্জে ছিলেন একাধারে বাবা, এজেন্ট, পরম পরামর্শদাতা। আর সেই অল্প কয়েকজন মানুষের একজন, ফুটবল বিশ্বের চূড়ায় পৌঁছানোর পরও লিওনেল মেসি যার মতামতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন।





