ম্যানউই’তে খেলা কেপ ভার্দের উইঙ্গার আসছে বসুন্ধরা কিংসে!

সংগৃহীত ছবি
পুরো নাম তিয়াগো মানুয়েল দিয়াজ কোরেইয়া। তবে বিশ্ব ফুটবলে তার পরিচিতি ‘বেবে’ নামে। পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত এ ৩৬ বছর বয়সী কেপ ভার্দের উইঙ্গারকে উড়িয়ে আনছে বসুন্ধরা কিংস। এবারের দলবদলে যেটা হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় চমক। বিষয়টি ক্লাবের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বয়স শুনে অনেকের হয়তো ভ্রুঁ কুঁচকে যেতে পারে। তাদের জ্ঞাতার্থেই বলা, গত মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসকে ট্রেবল জেতানো ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ডরিয়েলটন গোমেজের বয়সও ছিল ৩৬। তবে ডরিয়েলটনের চেয়ে বেবে ক্যারিয়ার অনেক বেশি বর্ণাঢ্য। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বিস্ময় ছিল কেপ ভার্দে। আফ্রিকান দ্বীপদেশটি চমকে দিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, রানার্স-আপ আর্জেন্টিনাসহ বাঘা বাঘা সব দলকে। বেবের ত্রিদেশীয় বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। তবে কেপ ভার্দেকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে বাছাই পর্বে রেখেছিলেন অবদান।
কেপ ভার্দের হয়ে ২০২২ সালে অভিষেকের পর ২৬ ম্যাচ খেলে ছয় গোল করা বেবে অবশ্য স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সতীর্থ হওয়ার। পর্তুগালে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সে দেশটির অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়েও খেলেছেন ছয় ম্যাচ। তবে সিনিয়র দলে ডাক পাননি।
এক ভাঙা পরিবার থেকে উঠে আসা বেবে’র শৈশব কেটেছে লিসবনের একটি গৃহহীণ আশ্রয় কেন্দ্রে। ২০০৯ সালে এস্ত্রেলা দে আমাদোরায় ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। পরের বছরই তার জীবনে আসে বিশাল এক বাঁক বদল।
পর্তুগিজ ক্লাব ভিক্টোরিয়া এসসি’তে সাইন করার কয়েক মাস পরেই প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাকে ৭ মিলিয়ন পাউন্ড বেতনে কিনে নেয়। মূলত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সেই ড্রিম টিমে অবশ্য খুব বেশি খেলার সুযোগ হয়নি। ফার্গুসনকে খুশি করতে না পারায় ম্যানইউ তাকে লোনে তুরস্ক ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলিয়েছে টানা চার মৌসুম।
২০১৪ সালে স্পেনের লা লিয়াগ বেনফিকায় নাম লেখান তিনি। তবে বেবে সবচেয়ে বেশি সময় খেলেছেন রায়ো ভালেকানোর হয়ে। বর্তমানে স্প্যানিশ প্রিমিয়ার ডিভিশন গ্রুপ-১ লিগের দল ইউনিয়ন দেপোরতিভা ইবিজায় খেলছেন বেবে।
তবে অচিরেই তাকে ঢাকায় দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের একজন শীর্ষ কর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, 'কেপ ভার্দের এই উইঙ্গারের সঙ্গে চুক্তির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আশা করছি, ঢাকায় তিনি অসাধারণ খেলা উপহার দেবেন আমাদের জার্সিতে।'
ফিফার ১৪টি ট্রান্সফার ব্যান থেকে মুক্তি পেয়ে শেষ মুহূর্তে বসুন্ধরা সেরা দল গড়ে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে চাইছে। রাকিব হোসেন, তপু বর্মণ, সোহেল রানা সিনিয়র, বিশ্বনাথ ঘোষ, মেহেদি হাসান শ্রাবনদের ধরে রাখার পাশাপাশি সাফ কোটায় তিনজন অভিজ্ঞ নেপালি ফুটবলারকে নিশ্চিত করেছে তারা। রোহিত চাঁদ, অঞ্জন বিস্তাদের পাশাপাশি গত মৌসুমে আবাহনীতে খেলা নাইজেরিয়ান এমেকা ওগবাহ এবার খেলবেন কিংসে। বেবে’র আসাও অনেকটাই নিশ্চিত।
এদিকে দুই মৌসুম পর পুরনো ক্লাবে ফিরতে মুখিয়ে আছেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহো। বসুন্ধরা উল্টো ভাবছে তাকে নেওয়ার ব্যাপারটা। মোহনবাগানে খেলা রবিনহোকে শেষ পর্যন্ত নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আজই চূড়ান্ত করতে চায় বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ। সেই শীর্ষ কর্তা আরও বলেছেন, ‘রবিনহো আমাদের এখানে খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। আমরা বললেই চলে আসবে। সত্যি বললে ওর বর্তমান ফর্ম নিয়ে আমরা একটু দ্বিধান্বিত। তবে আজই আমরা ওর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’
দেরিতে মাঠে নামলেও, বোঝাই যাচ্ছে এবারও বসুন্ধরা শিরোপার অন্যতম দাবিদার।







