ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বিক্রি রুখে দেন যে দুই সাহসী নারী

চাপের মুখে বিতর্কিত বিশ্বকাপ বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর এই উদ্যোগ রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন উয়েফার দুই নারী নির্বাহী কমিটির সদস্য—লিস ক্লাভেনেজ ও লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার। পুরুষ প্রধান ফুটবল প্রশাসনের একচ্ছত্র আধিপত্যের মাঝে তাদের এই দৃঢ় অবস্থান বিশ্ব ফুটবলের নীতিনির্ধারণী মহলে নারীর ক্ষমতায়ন ও নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, ফিফা যখন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার গোপন পরিকল্পনা করছিল, তখন তার প্রতিবাদে জরুরি বৈঠকে বসে উয়েফা। বৈঠকে পুরুষ নির্বাহীদের অনেকেই প্রাথমিক পরিস্থিতিতে কিছুটা রক্ষণাত্মক ছিলেন। ঠিক তখনই উয়েফার ২১ সদস্যের নির্বাহী কমিটির দুই নারী সদস্য লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার ও লিস ক্লাভেনেজ কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন। ওয়েলসের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার সরাসরি ফিফার সব প্রতিযোগিতা পূর্ণ বয়কটের জোরালো দাবি জানান। অন্যদিকে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিস ক্লাভেনেজ ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং সুশাসনের রূপরেখা তুলে ধরেন। সূত্র জানিয়েছে, উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিনের পরই এই সংকটে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর ছিলেন এই দুই নারী।
ফুটবল ঐতিহাসিকভাবে নারীদের মূল ধারা থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও এই দুই নারী নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছান। লিস ক্লাভেনেজ নরওয়ের জার্সিতে ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ২০২২ সালে প্রথম নারী হিসেবে এনএফএফ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার ২০২৩ সালে প্রথম ওয়েলস নাগরিক হিসেবে উয়েফার নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পান এবং পরবর্তীতে সেখানে নারীদের জন্য নির্ধারিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে দুটি করতে সক্ষম হন। কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে সম্প্রতি ফিফা শান্তি পুরস্কার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা প্রধানের বিতর্কিত যোগসাজশ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন তারা। ফুটবল যখন নৈতিক সংকটে নিমজ্জিত, তখন এই দুই নারী নিজেদের আপসহীন অবস্থানের নিজেদের প্রমাণ করেছেন। উয়েফার কঠোর অবস্থানের পরই বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলো ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় সরব হয়।






