বিশ্বকাপের ১৬ ভেন্যুর ১৪টিতেই থাকবে দাবদাহ

প্রচণ্ড গরমে নিজেদের সেরাটা খেলা চ্যালেঞ্জ হবে ফুটবলারদের। ছবি: সংগৃহীত
৪৮ দলের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরকে সামনে রেখে দল ও আয়োজকদের প্রস্তুতিটা চলছে জোরেশোরেই। তবে উন্মাদনার মধ্যেই চোখ রাঙানি দিচ্ছে বড় এক শঙ্কা। এবারের আসরে ফুটবলার, দর্শক এবং কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে অতিরিক্ত দাবদাহ ও গরম।
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জুন-জুলাই মাস এই অঞ্চলের বছরের উষ্ণতম সময়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিফা এবং আয়োজক ১৬টি শহর বিশেষ ব্যবস্থাও নিচ্ছে।
কুইনস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ডোনাল মুলান আভাস দিলেন, অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বেশ হ্যাপা পোহাতে হবে গরম নিয়ে, ’১৬ ভেন্যুর মধ্যে ১৪টিতেই প্রচণ্ড দাবদাহ থাকবে। এটা ফুটবলার, অফিশিয়ালস ও দর্শক; সবার জন্যই বিপদের কারণ হতে পারে।‘
অবস্থা যখন এই, অতিরিক্ত তাপের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে ফিফা। ম্যাচের প্রতি হাফে অন্তত ৩ মিনিটের 'হাইড্রেশন ব্রেক' থাকবে। ফুটবলাররা সেখানে পানি পান ও শরীর শীতলের সুযোগ পাবেন। আবহাওয়া যেমনই হোক, এটি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা চলছে।
ডাগআউটে বদলি ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বসার জায়গার ব্যবস্থা থাকবে। ফুটবলারদের শারীরিক ধকল কমাতে প্রতিটি ম্যাচের মাঝে অন্তত ৩ দিনের বিরতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ম্যাচে ৫ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়মও কার্যকর থাকবে।
ফিফা একটি বিশেষ 'হিট ইলনেস মিটিগেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট টাস্কফোর্স' গঠন করেছে, যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অপারেশনাল টিম নিয়ে তৈরি। তারা ‘রিয়েল-টাইম’ তাপমাত্রার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করবে।
তীব্র উত্তাপ থেকে বাঁচতে স্টেডিয়াম নির্বাচন এবং খেলার সময়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যে ৪টি স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ ঢাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (ভ্যানকুভার ও ডালাস), সেগুলোতে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে।
সান্তা ক্লারা (ক্যালিফোর্নিয়া) এবং মায়ামির মতো শহরগুলোতে তাপমাত্রা বেশি থাকায় ম্যাচগুলো সন্ধ্যার পর শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে অন্তত ১৪টি শহরই চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসের ডালাস, হিউস্টন এবং মেক্সিকোর মন্টেরি শহরগুলোতে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা লাখ লাখ ফুটবল ভক্তদের জন্যও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকাগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস, বড় তাঁবু এবং কুয়াশা ছড়ানো ফ্যান রাখা হবে।
ভ্যানকুভারের মতো শহরগুলো অস্থায়ী পানির ফোয়ারা এবং হাত ধোয়ার স্টেশন স্থাপন করছে। সিয়াটলে ভ্রাম্যমাণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থাও থাকবে।
ডালাস এবং টরন্টোর মতো শহরগুলোতে প্রতিটি ফ্যান জোনে আইস-ব্যাগ এবং বরফে নিমজ্জিত করার বিশেষ ট্যাংক সহ মেডিক্যাল ক্যাম্প থাকবে, যাতে হিট-স্ট্রোক আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।
এছাড়াও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মতো এলাকাগুলো একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করছে, যা সরাসরি তাপমাত্রার সতর্কতা এবং নিকটস্থ মেডিক্যাল সেন্টারের তথ্য সরবরাহ করবে।
হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবককে 'হিট স্ট্রোক' বা অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার লক্ষণগুলো চেনার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত দর্শকদের সহায়তা করতে পারেন।
কাতার বিশ্বকাপের আগেও উঠেছিল একই শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সময়সূচিই বদলে যায়। এবার অবশ্য নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে বিশ্বকাপ। গরম থেকে বাঁচতে যত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফিফা, শেষ পর্যন্ত কি সেগুলো সফল হবে?



