তিনি বায়ার্নের সালাহ

বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় উইঙ্গার ভাবা হচ্ছে ওলিসেকে। ছবি: সংগৃহীত
৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহী, মাথায় কালো চুলের পনিটেইল ও বাদামি গায়ের রঙের এই তরুণ যখন বল পায়ে মাঠে নামেন তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে দেখা যায় আতঙ্কের ছায়া। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে যখন এই ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড ভেতরে ঢোকেন তখন স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। তার নাম মাইকেল ওলিসে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ক্রিস্টল প্যালেস থেকে ওলিসকে ৬ কোটি ইউরোয় বায়ার্ন মিউনিখ কেনার শুরু হয়েছিল সমালোচনা। কারণ তিনি চোটপ্রবণ। সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন অলিম্পিক দলে একসঙ্গে কাজ করা ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা থিয়েরি অঁরি। ওলিসে বায়ার্নের হয়ে মাঠে নামার আগেই অঁরি বলেছিলেন, ‘ অবিশ্বাস্য গুণ রয়েছে ওর। এটা কেবল শুরু, আরো অনেক কিছু দেখার বাকি। এমন খেলোয়াড় বিরল।’
অঁরির আস্থার প্রতিদান বেশ ভালো মতোই দিয়েছেন ওলিসে। মাঠে তার বাঁ পায়ের জাদুর কারণে এখন অনেকের চোখেই তিনি বিশ্বের সেরা উইঙ্গার। ওলিসে চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। লিগে আরো ছয় ম্যাচ হাতে থাকায়, মেসি ও মুলারের গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভাঙ্গার সুযোগও আছে তার।
ওলিসে তার মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন অন্য বড় ক্লাবগুলোর মাঝেও। গুঞ্জন আছে, বিদায়ি মোহাম্মদ সালাহর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মাইকেল ওলিসকে চায় লিভারপুল। তবে কোনোভাবেই ওলিসকে লিভারপুলে কাছে ছাড়তে রাজি নয় বাভারিয়ানরা। এই মুহূর্তে আক্রমণ ভাগে ওলিসের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার কারণে তাকে বিক্রি করার ভাবনা নেই বায়ার্নের।
২০২৩-২৪ মৌসুমে দুই দফায় হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে যাওয়ার পর অনেকেই ওলিসকে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ মনে করেছিলেন। তবে বায়ার্নে বাধাহীনভাবে একের পর এক ম্যাচ খেলে যাওয়াটাই গুলিসের খেলার মানকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এজন্য জার্মান বিশ্বকাপজয়ী ক্রিস্টফ ক্রামার গত দশ বছরের সেরা বুন্দেসলিগা ট্রান্সফার হিসেবে দেখছেন ওলিসের বায়ার্নে আসাটা।
বায়ার্নে আসার পর একটি ম্যাচেও চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়নি ২০ বছর বয়সি তারকাকে। প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি মুদ্ধ এজন্য,‘এভাবে চলতে থাকলে সে দীর্ঘদিন ফিট থাকবে আর খেলোয়াড় হিসেবে উন্নতি করতে থাকবে।'
সাংবাদিকদের সামনে মাইক্রোফোনে কথা বলতে খুব বেশি পছন্দ নয় ওলিসের। ফুটবল মাঠেই বল পায়ে কথা বলতে ভালোবাসেন তিনি। মিউনিখে আসার পরপরই তিনি বলেছিলেন, ‘একজন ফুটবলারকে সবার আগে মাঠেই জবাব দিতে হয়।’ সেই জবাবই দিয়ে চলেছেন দুই পায়ের জাদুতে।
















