ম্যারাডোনার সতীর্থ মেসি পরিবারের বন্ধু দিয়াস এখন...

সংগৃহীত ছবি
নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে একই দলে ছিলেন লিওনার্দো দিয়াস। এরপর কোলনে চেনান নিজেকে আর ইনদেপেন্দিয়েন্তের হয়ে জেতেন চ্যাম্পিয়নশিপ। লিওনেল মেসির পরিবারের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তার। তবে ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে নতুন পেশা বেছে নেন দিয়াস। তার জীবনের বেশিরভাগ অংশই কাটছে স্টেডিয়ামের বাইরে।
গোলরক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলা লিওনার্দো দিয়াস কাদেনা ৩ রোজারিও-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার একটি বড় প্রতিষ্ঠানে ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছি। এখন আমার ৮০ শতাংশ সময় এতেই কেটে যায়।’
গ্লাভস জোড়া খুলে রাখার পর দিয়াস মনোযোগ দেন পড়াশোনায়। আর ফাইন্যানশিয়াল প্ল্যানিংয়ে অর্জন করেন বিশেষ দক্ষতা । তবে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন করেননি। উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি গোলরক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেন এবং ‘লেয়োনেস দে রোসারিও’ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত আছেন। লিওনেল মেসির ভাই মাতিয়াস মেসির সভাপতিত্বে পরিচালিত এই ক্লাবটি সম্প্রতি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেওয়া শুরু করেছে।
লিওনার্দো দিয়াসের ফুটবলের পথচলা শুরু হয়েছিল নিওয়েলসে। এই ক্লাবেই তার বেড়ে ওঠা। ১৯৯৩ সালে রোজারিওতে কিছুদিন খেলেন ম্যারাডোনা। নিওয়েলসের হয়ে দিয়াসের অফিশিয়াল অভিষেক না হলেও, তিনি ম্যারাডোনার সঙ্গে অনুশীলন করতেন এবং অনুশীলনের পর তার কিক ঠেকানোর চর্চা করতেন। ‘এল লিতোরোল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়াস স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বিষয়টি একদম অবিশ্বাস্য ছিল, তাকে চোখের সামনে দেখাটাই ছিল অসাধারণ এক অনুভূতি।’
সাবেক এই গোলরক্ষক জানান, ম্যারাডোনা কীভাবে তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশতেন, অনুশীলনে সবার আগে চলে আসতেন এবং ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি অনুশীলনের জন্য তাকেও থেকে যেতে বলতেন। দিয়াস বিশেষ করে জুনিয়র খেলোয়াড়দের প্রতি ডিয়েগোর আচরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সে সময় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হলেও ডিয়েগোর ছিল অসাধারণ এক বিনয়। সবার সঙ্গে দারুণভাবে মিশে যেত ও।’
এরপর কোলনের হয়ে ক্লাব ফুটবলের শীর্ষস্তরে দিয়াসের অভিষেক হয়। ক্লাবটির ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ১৯৯৫ সালে কোলনের শীর্ষ লিগে উঠে আসার পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং ‘এল সাবালেরো’ (কোলনের ডাকনাম)-দের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে তোলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে হোসে লুইস চিলাভার্টের পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন তিনি। প্যারাগুয়েন তারকা শট নেওয়ার আগে দিয়াস তাকে মজা করে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমি যদি এটা ঠেকিয়ে দিই, তবে তোমাকে তোমার জার্সি আমাকে দিতে হবে।’ এরপর দিয়াস চিলাভার্টের শটটি আটকে দেন এবং চিলাভার্টও তার কথা রেখেছিলেন।
২০০২ সালে দিয়াস। ইনদেপেন্দিয়েন্তেতে যোগ দেন। ২০১১ সালে দেপোর্তিভো মাইপুতে অবসর নেওয়ার আগে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, সাইপ্রাস, চিলি, মিসর ও বলিভিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা যোগ হয়।




