বাংলাদেশের কোচ
ডুলির লক্ষ্য ‘নতুন ইতিহাস’, কিন্তু চুক্তি…

ঈদে ছুটি নেই বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের। দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে সান মারিনো মিশনের জন্য তৈরি হচ্ছে তারা। এই কাজে নেমেই মার্কিন কোচ টের পেয়েছেন দেশের মানুষের ফুটবল আবেগ ও ভালোবাসা, ‘মাত্র কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে যখন মাঠে পা রাখলাম, তখনই এই দেশের ফুটবল ভক্তদের অবিশ্বাস্য আবেগ ও প্রত্যাশার চাপ টের পেয়েছি।’
শুরুর এই চাপে মাত্রা ছাড়ানো ব্যাপার না থাকলেও সেটা মাঝে মাঝে ভয়ংকর রূপ নেয়। আগামী ৫ জুন সান মারিনো জয় করতে না পারলে কোচের ওপর চাপটা হতে পারে নানামুখী। এখনই কিছু মানুষের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সুরও। সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখার পর থমাস ডুলির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আমেরিকার হয়ে দুইবার বিশ্বকাপ খেলা এই কোচের সঙ্গে আপাতত দুই মাসের চুক্তির পক্ষে তিনি।
সাধারণত এত কম সময়ের চুক্তিতে কোনো কোচই রাজি হন না। চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, এমন কোনো খবরও দেওয়া হয়নি বাফুফের পক্ষ থেকে। তবে ডুলি বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেইসবুক পেজে বলেছেন,‘ আমি কেবল একটা সহজ উপার্জনের রাস্তা খুঁজতে বা আরাম আয়েশ করতে পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে এখানে উড়ে এসে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিইনি।’
তিনি এসেছেন একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলকে সমৃদ্ধ করা এবং বিশ্বমানে পৌঁছে দেওয়াই ডুলি লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্যটা কেবল একটা ম্যাচ জেতা নয়।’ তার চেয়েও বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো জার্মানির 'বুন্দেসলিগায় খেলে যে শৃঙ্খলার শিক্ষা পেয়েছি, তা এখানে নিয়ে আসা, আর যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক থাকার সময় যে অটল আত্মবিশ্বাস আমার মধ্যে ছিল, তা এই ছেলেদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা প্রথম দিন থেকেই এখানে একটি বিশ্বমানের দল গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছি—এমন একটা দল, যারা মাঠে বুদ্ধিমত্তার সাথে বল নিয়ন্ত্রণে রাখবে, সুসংগঠিত থাকবে এবং পুরো শক্তি দিয়ে খেলবে।’
এটা আসলে লম্বা মিশন। ততদিন ডুলি সময় পাবেন কিনা, তার হাত ধরে বাংলাদেশ ফুটবলের সাফল্যের গ্রাফটা উর্ধ্বমুখী হচ্ছে কিনা, এসবের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। আপাতত থমাস ডুলি দেশের ফুটবল ভক্তদের পাশে চাইছেন, ‘বাংলাদেশের সকল ফুটবল ভক্তদের বলছি, চলুন আমরা একসঙ্গে নতুন এক ইতিহাস তৈরি করি।’
কিন্তু দুই মাসের চুক্তি দিয়ে কি ইতিহাসের পথে রওনা দেওয়া যায়!






