দিওমান্দে এখন অপ্রতিরোধ্য

সংগৃহীত ছবি
লেগানেসের বিপক্ষে দেখিয়েছেন সাহসিকতা। লাইপজিগের বিপক্ষে ড্রিবলিং দক্ষতা। এমনকি দুই ফ্ল্যাঙ্ক থেকেই গোল করার ক্ষমতাও দেখিয়েছেন ইয়ান দিওমান্দে। এতদিন যেটা জানা যায়নি- সেটা দিওমান্দের ডান পায়ের রকেট লঞ্চার। রেসিং সান্তাদারের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতির সেই শটে গোল করে হতবাকই করে দিয়েছেন রিয়ালের নতুন এই তারকা। এর আগের দুটি গোলও এসেছিল তার গোলার মত শটে।
নান্দনিকতার বাইরেও দিওমান্দের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সাত ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন একাদশে, রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে সেই সাতটিতেই। রিয়াল ছুটছে পুরো গতিতে আর দিওমান্দে এর অন্যতম চালিকাশক্তি।
দিওমান্দের শেষ তিনটি গোল ছিল অসাধারণ। সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে করেছেন লক্ষ্যভেদ। লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের ম্যাচে আরও কয়েক মিটার সামনে থেকে ভলি। আর রেসিং সান্তান্দারে গোলটি প্রথম দুটির উন্নত মিশ্রণ। প্রথমটির মতো দূরপাল্লার, দ্বিতীয়টির মতো জটিল। ১৯ মিটার দূর থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৩.৩ বার ঘূর্ণন নিয়ে ঘণ্টায় ১২০.২ কিলোমিটার বেগে একজন নিখুঁত চিত্রকরের মত বলকে জালে জড়িয়ে দেওয়ার শিল্পকর্ম।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর থেকেই দিওমান্দের ফর্ম উন্নত হচ্ছিল। সেই বিরতিতে তিনি আইভোরি কোস্টের জার্সিতে প্রমাণ করেছিলেন যে ওড়ার জন্য প্রস্তুত। রিয়ালের হয়ে সর্বশেষ ৬ ম্যাচে অবদান রেখেছেন ৭ গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট)।
কিলিয়ান এমবাপ্পে তার চেয়ে বেশি খেলেছেন ৫১২ মিনিট। তারপরও দিওমান্দের চেয়ে মাত্র পাঁচটি ড্রিবল বেশি সম্পন্ন করেছেন (এমবাপ্পের ৩৯টি, দিওমান্দের ৩৪টি)।
ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞার সর্বোচ্চ ফায়দা নিয়েছে দিওমান্দে। উইংয়ের বাম প্রান্তটা এতদিন প্রশ্নাতীতভাবে ভিনির দখলে ছিল, সেটিই এখন দিওমান্দের সেরা ফর্মের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আইভোরিয়ানের শেষ তিনটি দর্শনীয় গোলই এসেছে বাম প্রান্তে পজিশন নিয়ে ডান পায়ে শট নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা থেকে। এছাড়া অন্যান্য বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতাও আছে তার।
জোসে মরিনহো তাকে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে দলে মানিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে নিজের নতুন শিষ্য মাঠে নামার আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে, দিওমান্দে দলের জন্য যে মানসিকতা নিয়ে এসেছেন তা তার পছন্দ।
দিওমান্দে বলেছিলেন তিনি তার কোচের জন্য ‘জীবন দিতে প্রস্তুত’। পর্তুগিজ কোচ এর জবাবে বলেছিলেন, ‘শব্দগুলোকে আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে, এটি আমার পছন্দের একটি অভিব্যক্তি। আমি বরং চাই সে দলের জন্য, রিয়াল মাদ্রিদের জন্য প্রাণ দিক। তবে সে যখন আমার নাম ব্যবহার করে দল ও ক্লাবের প্রতি কী বোঝাতে চাইছে, তা আমি জানি... কিন্তু কথা বলা সহজ। সেগুলোকে কাজে রূপ দেওয়া কঠিন।’
দিওমান্দে আক্রমণে রক্ষণে সাহায্য করে—সেটাই করে দেখিয়েছেন।




