ঢাকায় ব্রাজিলের ম্যাচ
বিনিয়োগে অনাগ্রহী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
আগামী অক্টোবরে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ব্রাজিল। এমন খবর আসার পর থেকেই দেশের ফুটবল ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। তবে এই ম্যাচ আয়োজন আলোচনায় শুরুতেই জল ঢেলে দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ মঙ্গলবার বক্সিং ফেডারেশনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সংবাদকর্মীদের আমিনুল জানিয়েছেন, ব্রাজিলের সফরে অর্থ বিনিয়োগের মানসিকতা সরকারের নেই।
গত রবিবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে গেছেন। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। ঢাকার বেশ কটি পাঁচ তারকা হোটেলও দেখেছে প্রতিনিধিদল। কলকাতায় ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পরপরই বাংলাদেশের সঙ্গে ঢাকায় ৬ অক্টোবর একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পায়নি, তবে প্রতিনিধিদলের এ সফর নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ফুটবল ভক্তদের মাঝে। ঘরের মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের নিজ দল বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে দেখতে চান অনেকেই।
তবে এই ম্যাচ আয়োজনে প্রয়োজন বিশাল অঙ্কের অর্থ। বাফুফেকে এই ম্যাচ আয়োজন করতে সরকারের সহায়তাও লাগবে। তবে সরকার এরকম ম্যাচ আয়োজনে খুব বেশি সহায়তা করতে পারবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন আমিনুল হক, ‘এককথায় উত্তর দিলে এই মুহূর্তে আমাদের সরকারের পক্ষে এ ধরনের অর্থ ব্যয় করা হয়তো সম্ভব হবে না। যেহেতু আপনারা জানেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে একটি ম্যাচকে উপলক্ষ করে সরকারের পক্ষে এ ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা আমাদের ভেতরে নেই।’
তবে আমিনুল হক জানান, অর্থ দিয়ে না হলেও সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত, ‘বাফুফের সঙ্গে যেহেতু ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের কথা হয়েছে, তারা যদি বিভিন্ন স্পনসর এনে সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্রাজিলের ঢাকা আসার সম্ভাবনা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বাফুফের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক আলোচনাই করেছি। ব্যয়ভার বহনসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে এখনো খোলামেলা আলোচনা হয়নি।’
ব্রাজিল বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশের ফুটবলে কী লাভ? এমন প্রশ্নও হয়েছে। আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যেটা বিশ্বাস করি, ব্রাজিল দল যদি বাংলাদেশে আসে, এসে যদি আবার বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খেলে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন। তবে বাংলাদেশের ফুটবল কতটুকু এগোবে এর মাধ্যমে, এটা নিয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই। ম্যাচ হবে, হয়তো বা বাংলাদেশ ব্রাজিলের সঙ্গে খেলবে, মানুষের যে প্রত্যাশা, সেটাও হয়তো বা পূরণ হবে। দর্শকরা হয়তো একটু আনন্দিত হবেন, কিন্তু ব্রাজিল দল খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন চলে আসবে—এ বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই।’
সরকারের পক্ষে এই ম্যাচ আয়োজনে আর্থিক সহায়তা না পেলে বাফুফের জন্য কঠিন হয়ে যাবে ব্রাজিলকে আতিথ্য দেওয়া।






