ফুটবলারদের খ্যাপ খেলায় খেপেছেন আমিনুল

সংগৃহীত ছবি
এক সময় নিজে ছিলেন জাতীয় দলের বড় তারকা। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে পেশাদার ফুটবল খেলেন আমিনুল হক। এর আগ পর্যন্ত ফুটবলারদের ওপর বিধি নিষেধ ততটা ছিল না। ফলে ক্লাব ফুটবলের বাইরে প্রায়ই খ্যাপ খেলা ছিল নিয়মিত ঘটনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলাররা প্রবেশ করেছেন পেশাদার যুগে। সচেতনতাও বেড়েছে অনেক। তারপরও বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে এখনও খ্যাপ খেলার বদভ্যাস ছাড়তে পারেননি জাতীয় দলের ফুটবলাররাও। বর্তমান তারকাদের খ্যাপ খেলাটা অবশ্য ভালোভাবে নেননি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল। বিশেষ করে এক ঝাঁক জাতীয় দলের তারকাকে স্বচক্ষে খ্যাপ খেলতে দেখে ভীষণ খেপেছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেবেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
মৌসুমের বিরতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খ্যাপ খেলে বাড়তি অর্থ উপার্জনের বদভ্যাস নতুন নয় জাতীয় দলের তারকাদের। জাতীয় দলের তকমা আছে বলেই মোটামুটি চড়া অর্থে খ্যাপ খেলে বেড়ান ফুটবলাররা। গত দুই মৌসুম দলবদলে চলছে ভাটার টান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বাজেট কমে গেছে সব ক্লাবের। আগের মতো আয় রোজগারও হয় না। চলমান দলবদলে বেশিরভাগ ক্লাব নিষ্ক্রিয় একেবারেই। এখনও প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু করেনি বেশিরভাগ ক্লাব। অবসরে রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমরা ব্যস্ত জেলায় জেলায় নানা টুর্নামেন্ট খেলা নিয়ে।
টাঙ্গাইল ও নেত্রকোনায় এরকমই দুটি টুর্নামেন্টে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন আমিনুল হক। সেখানে গিয়ে নিজ চোখেই দেখেছেন শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মেহেদী হাসান মিঠুদের খ্যাপ খেলতে। এছাড়া রাকিব হোসেন, মোহাম্মদ হৃদয়রাও নিয়মিতও খ্যাপ খেলছেন। পেশাদার যুগে যেখানে সেখানে খেলাটা বড় ঝুকির। এবড়ো থেবড়ো মাঠে অপেশাদার ফুটবলারদের সঙ্গে খেলায় চোট ঝুকি থাকে অনেক। এতে যেমন ক্লাব ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, আবার জাতীয় দলেও পড়তে পারে বাজে প্রভাব। এ কারণেই ভীষণ ক্ষেপেছেন আমিনুল। বিশেষ করে জাতীয় দলকে মাসিক ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পরও ফুটবলারদের খ্যাপ খেলতে দেখে বিরক্ত হয়েছেন তিনি, ‘আমি দুইটা টুর্নামেন্টে গিয়েছিলাম- টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে। দুটি টুর্নামেন্টেই দেখেছি আমাদের জাতীয় দলের কারেন্ট প্লেয়ার সে সব খেলায় অংশ নিচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সেসব খেলোয়াড়ের কাছে এবং আমি প্রশ্ন করতে চাই বাফুফের কাছেও যে যেখানে আমরা খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ক্রীড়া ভাতা দিচ্ছি, সেখানে খেলোয়াড়দের খ্যাপ খেলতে যাওয়া কতটা সমীচীন? দেশের প্রতি, নিজেদের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এতে। বাফুফের সভাপতির সঙ্গে দ্রুতই দুই-একদিনের মধ্যে এ নিয়ে আমি কথা বলবো। যে খেলোয়াড়রা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খ্যাপ খেলেছে, সে বিষয়টি নজরে এনে যাতে তাদের সতর্ক করা হয়। আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই। তারপর আমরা অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করবো। ভবিষ্যতে যদি জাতীয় দলের কোনো ফুটবলার এ ধরণের কোনো খ্যাপ খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পরে, তার দায়-দায়িত্ব কিন্তু কেউ নেবে না।’
অতীতে জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাবস্থায় নাম বদলে খ্যাপ খেলতে দেখা গেছে বড় বড় অনেক তারকাকে। সম্প্রতি খ্যাপ খেলার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে। তিনি জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন। এখন আমিনুল নিজেই যখন জাতীয় দলের ফুটবলারদের খ্যাপ খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন বাফুফেরও উচিত নড়েচড়ে বসা।




