আবারও মারুফুলের আবাহনী চ্যালেঞ্জ
- ম্যানেজার হলেন স্বপন

আবাহনীর দুঃসময়ের কান্ডারি মারুফুল হক
স্থানীয় কোচদের সেরার তালিকায় সবার ওপরের নামটি মারুফুল হক। দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত সবকটি বড় দলেই কাজ করার অভিজ্ঞা রয়েছে তার। তবে আবাহনী দায়িত্বটা যখন পেয়েছিলেন তখন ধানমন্ডির ক্লাবটির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ক্লাব রীতিমতো সংগ্রাম করছে। এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে আবাহনীর হাল ধরেছিলেন মারুফুল। দুই মৌসুম লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া মারুফুলকে এবারও কোচ করেছে আবাহনী। ক্লাবটির ওপর এতদিন ছিল ফিফার রেজিস্ট্রেশন নিষেধাজ্ঞা। সেটি উঠে যায় সোমবার রাতে। সে রাতেই মারুফুলকে টানা তৃতীয় মৌসুমে দায়িত্ব দেয় আবাহনীর শীর্ষ প্রশাসন।
মারুফুল হক টিকে গেলেও বদল এসেছে টিম ম্যানেজমেন্টে। গত দুই মৌসুম আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন আলী ইয়াকুব ঝন্টু। তবে পর্দার পেছন থেকে পুরো দল পরিচালনা করতেন সত্যজিৎ দাস রুপু। বাফুফের নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ তিন মৌসুমে আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্বে নেই রুপু। তবে পেছন থেকে এবারও ফিফার নিষেধাজ্ঞা তুলতে এবং পুরানো ফুটবলারদের ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
ঝন্টুর স্থলে আগামী মৌসুমে আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির সাবেক ফুটবলার শহীদ হোসেন স্বপনকে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত আবাহনীর হয়ে খেলা জাতীয় দলের সাবেক এই মিডফিল্ডারকে মারুফুলের সঙ্গেই ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়েছে ক্লাবটি।
টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব পাওয়া মারুফুল দল গোছানোর জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না। তবে ক্লাবের আশ্বাসে গত মৌসুমে খেলা আশি শতাংশ স্থানীয় ফুটবলার অন্য কোনো দলে নাম লেখাননি বলেই ভালো দল গড়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মারুফুল— ‘একেবারে শেষ সময়ে দায়িত্ব পেয়েছি ঠিক, তবে ক্লাবের আশ্বাসে গত মৌসুমে খেলা স্থানীয়দের অনেকেই অন্য দলে যায়নি। আজ রাতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। আশা করি এবারও আবাহনী নামের প্রতি সুবিচার করে দল গড়বে।‘
আগের দুই মৌসুমে বলতে গেলে স্থানীয় নির্ভর দল গড়েই ভালো করেছিল আবাহনী। গত মৌসুমে লিগ রানার্স-আপ হয়েছে দলটি। চরম অর্থ সংকটের মধ্যে থাকা আবাহনী এবারও ভালোমানের বিদেশি ফুটবলার নেওয়া নিয়ে সংশয়ে আছে। এমনকি দলবদলের শেষ মুহূর্তে অন্য দলগুলো থেকে পছন্দের স্থানীয়দের সঙ্গে চুক্তি করাও চ্যালেঞ্জ মানছেন মারুফুল— ‘শেষ সময়ে পছন্দসই কাউকে দলে নেওয়া চাইলেই সম্ভব নয়। এখানে ক্লাবের সামর্থ্যের ব্যপারও জড়িত। বিদেশি ফুটবলার পাবো কিনা, সেটাও নিয়েও এখন কিছু বলতে পারবো না। তবে যেমন দলই পাই, আমরা আগের মতোই সেরা হওয়ার জন্য লড়াই করবো।‘
দলবদল শেষ হতে বেশি দেরি নেই। এখন দেখার মারুফুল-স্বপনরা শেষ পর্যন্ত কেমন দল গড়ে।







