মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ
বিশ্বকাপে যেখানে এগিয়ে মেসি

সংগৃহীত ছবি
প্রায় দুই দশক ধরে চলছে তাদের দ্বৈরথ। ক্লাব কিংবা জাতীয় দল, দুই কিংবদন্তির লড়াইটা ছিল সমানে সমান। তবে বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে লিওনেল মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। বিশ্বকাপের আগে ‘লো দেল পোশো শো’তে আর্জেন্টাইন ইউটিউবার পোশো আলভারেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, মাঠের বাইরে তাদের কোনো দ্বৈরথ ছিল না।
বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক ২০০৬ সালে। পাঁচ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি খেলেছেন ২৬ ম্যাচ। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে তার গোল ১৩টি। এর মধ্যে ৫ গোল করেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। মেসি জাদুতেই সেবার ৩৬ বছর পর সোনালি ট্রফি ঘরে তুলেছিল আর্জেন্টিনা।
রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রাও শুরু ২০০৬ সালে। পাঁচ বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনিও। পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন সিআর সেভেন। বিশ্বকাপে রোনালদো মোট ৮ বার বল জালে জড়িয়েছেন। তবে তার সব গোলই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্ব এলেই যেন গোল করতে ভুলে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক!
ইউরোপিয়ান ফুটবলে অবশ্য মেসি-রোনালদোর টক্করটা ছিল সমানে সমান। ৪৭৪ গোল করে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই বার্সা ছেড়েছেন মেসি। ব্যালন ডি অর জিতেছেন রেকর্ড ৮ বার।
চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো। এখানে তার গোল ১৪০, যার ধারে কাছেও কেউ নেই। রোনালদো ব্যালন ডি অর জিতেছেন পাঁচবার। চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা রোনালদো ছুঁয়ে দেখেছেন পাঁচবার, মেসির চেয়ে একটি বেশি।
মেসি রোনালদো দুজনেই এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপে শেষবারের মতো মুখোমুখি হতে পারেন আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তি।
মেসি জানালেন, রোনালদোর সঙ্গে তার সব দ্বৈরথ ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ, ‘ফুটবলে এরকম দ্বৈরথ খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ক্লাবে, জাতীয় দলে এমনটা হতেই পারে। তবে এসব শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ। আমি বার্সায় ছিলাম, সে রিয়ালে। আমরা ক্লাসিকো খেলেছি, আমাদের লক্ষ্য একটাই ছিল। আমরা দুজনে যা অর্জন করেছি, সেটাই আসলে এই দ্বৈরথকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।‘
রোনালদোর সঙ্গে খুব বেশি দেখা হতো না মেসি, ‘ম্যাচ কিংবা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ছাড়া আমাদের খুব বেশি দেখা হতো না। সবাই আমাদের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে থাকত। আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্কই ছিল। আমরা এখন দ্বৈরথ থেকে অনেক দূরে। তবে আমাদের অতীত দ্বৈরথটা খুব সুন্দর ছিল।‘
আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হতে পারে মেসি-রোনালদোর। দুই কিংবদন্তির শেষ এই লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন কোটি ফুটবল ভক্ত।




