দলবদল
অদ্ভুত শর্তে ১০০ মিলিয়নের বেশি আয় রিয়ালের!

হোসে মরিনহোর নতুন প্রজেক্টের অধীনে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ইতোমধ্যে ৯০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে ভিড় জমিয়েছেন বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়াা, দেনজেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিম কোনাতের মতো তারকারা। শুরুতে মনে হয়েছিল, ক্লাবটির আয় হয়েছে সামান্যই। তবে ‘গোল ডট কম’ জানিয়েছে, দুর্দান্ত এক কৌশলে খেলোয়াড় বিক্রি ছাড়াই এই দলবদলের পুরো খরচ তুলে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা!
চলতি দলবদলে বার্নার্দো সিলভা ও ইব্রাহিম কোনাতেকে ফ্রি ট্রান্সফারে দলে টেনেছে রিয়াল। এছাড়া ইন্টার মিলান থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসকে ২০ মিলিয়নে এবং চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়াকে আনতে খরচ হয়েছে ৫৫ মিলিয়ন ইউরো। বেনফিকা থেকে নতুন কোচ হোসে মরিনহোকে ছাড়িয়ে আনতে ১৫ মিলিয়ন ইউরো গুনতে হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের বিনিয়োগ প্রায় ৯০ মিলিয়ন ইউরো। বিপরীতে সরাসরি খেলোয়াড় বিক্রি থেকে রিয়ালের আয় মাত্র ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো।
আসল চমক লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। যখনই কোনো প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়কে ক্লাব ছাড়তে দেওয়া হয়, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের চুক্তিতে মোটা অঙ্কের ‘সেল-অন ক্লজ’ বা লভ্যাংশের শর্ত জুড়ে দেয় রিয়াল। আর এই সুবাদেই সম্প্রতি ক্লাবটির কোষাগারে জমা হয়েছে ১১০ মিলিয়নের বেশি ইউরো! অথচ গত মৌসুমে এই খেলোয়াড়রা মূল দলের অংশই ছিলেন না!
এই শর্তের সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভিক্টর মুনোজ। এই ফরোয়ার্ডকে ২০১৮ সালে নিজেদের যুব দল থেকে মূল দলে টানে রিয়াল। একসময় মূল দলের একাদশে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালে ওসাসুনায় যোগ দেন মুনোজ। সেখানে দারুণ পারফরম্যান্স করে স্প্যানিশ জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এবং সম্প্রতি লিভারপুলে নাম লেখান ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে। চুক্তি অনুযায়ী বিক্রয়মূল্যের পূর্ণ ৫০ শতাংশ অর্থ অর্থাৎ ২০ মিলিয়ন ইউরো সোজা জমা হয়েছে রিয়ালের অ্যাকাউন্টে! এর আগে ওসাসুনার কাছে তাকে ২৫ মিলিয়নে বিক্রি করায় সব মিলিয়ে মাত্র চার ম্যাচ খেলা এই খেলোয়াড় থেকে রিয়ালের পকেটে ঢুকেছে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো!
একইভাবে মারিও গিলার এসি মিলানে যোগ দেওয়ায় রিয়াল পেয়েছে ১৫ মিলিয়ন ইউরো। স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারকে ২০২২ সালে লাজিওতে বিক্রি করেছিল রিয়াল। সেখান থেকে সম্প্রতি ৩০ মিলিয়ন ইউরোতে মিলানে যোগ দেওয়ায় ৫০ শতাংশ হিসেবে ১৫ মিলিয়ন ইউরো পায় লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, বোর্নমাউথ থেকে এসেছে আরও ২১.৭৫ মিলিয়ন ইউরো। রিয়ালের যুব দল থেকে অতীতে এসি মিলানে যাওয়া অ্যালেক্স জিমেনেজকে ১৮.৫ মিলিয়ন ইউরোয় কিনে নেয় বোর্নমাউথ, যার একটি বড় অংশ (৯.২৫ মিলিয়ন) চলে আসে তার পুরনো ক্লাব রিয়ালের কোষাগারে।
আরেক ফরোয়ার্ড আলভারো রদ্রিগেজকে ২০২৩ সালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সমতা সূচক গোল করার জন্য ভক্তরা মনে রাখবে। পরবর্তীতে গেতাফে হয়ে এলচেতে পাড়ি জমানো এই স্ট্রাইকারকে ২৫ মিলিয়নে বোর্নমাউথ কিনে নিলে, সেখান থেকে ১২.৫ মিলিয়ন ইউরো পায় রিয়াল।
এই ১১০ মিলিয়নের সবচেয়ে বড় অংশটি এসেছে নিকো পাজকে বিক্রি করার মাধ্যমে। রিয়ালের যুব একাডেমির এই দুর্দান্ত মিডফিল্ডারকে ২০২৪ সালে কোমোতে বিক্রি করেছিল ক্লাবটি। সেখানে দারুণ খেলার পর রিয়াল ৯ মিলিয়ন ইউরোর বাই-ব্যাক ক্লজ ব্যবহার করে তাকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও, ইতালিয়ান ক্লাবটি তাকে রেখে দেয়। সব হিসেব নিকেশ শেষে রিয়ালের ঝুলিতে এসেছে ৫১ মিলিয়ন ইউরো! একই সঙ্গে ২০২৭ সালের জন্য আরেকটি বাই-ব্যাক অপশনও হাতে রেখেছে রিয়াল।
এই ধারাবাহিকতায় খুব শীঘ্রই সার্জিও আরনিবার্সকেও বিক্রি করে লাভবান হতে পারে রিয়াল। আলমেরিয়ার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই মিডফিল্ডারের প্রতি বেনফিকার আগ্রহ রয়েছে। তাকে ১২ মিলিয়নে বিক্রি করা হলে তার অর্ধেক অর্থাৎ ৬ মিলিয়ন ইউরো সোজা চলে আসবে মাদ্রিদে। মাঠে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করলেও ফুটবলারদের চুক্তিতে দূরদর্শী কৌশল ব্যবহার করে দলবদলের বাজারে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে রিয়াল। আগামী ১ আগস্ট ফিওরেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে মাদ্রিদের ক্লাবটি।









