আগামীর সময়

৯ নম্বর জার্সি পরে ম্যারাডোনার অজানা এক ‘অভিষেকের’ গল্প

৯ নম্বর জার্সি পরে ম্যারাডোনার অজানা এক ‘অভিষেকের’ গল্প

সংগৃহীত ছবি

আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা আর ১০ নম্বর জার্সি সেই বহুকাল ধরেই সমার্থক হয়ে আছে। কিন্তু ৪৯ বছর আগে মার্চের শেষভাগে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ম্যারাডোনা যখান প্রথমবার শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছিলেন, তার জার্সি নম্বর ছিল ভিন্ন। সেই ঐতিহাসিক এবং কিছুটা মজাদার অভিষেকের গল্প এখনও ফিরে ফিরে আসে তার সতীর্থদের স্মৃতিতে।

দেপোর্তিভো চাসকোমুস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ ঘিরে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। ১৯৭৭ সালের ২৩ মার্চ আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৮ দল যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছায়, তখন স্টেডিয়ামের গেট ছিল বন্ধ! ১৬ বছরের কিশোর ম্যারাডোনা নাকি বাসের জানালা দিয়ে এক লাফে স্টেডিয়ামের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েন! এরপর ভেতর থেকে গেট খুলে বাকিদের মাঠে প্রবেশের ব্যবস্থা করেন।

প্রচলিত এই গল্পটির বিষয়ে ম্যারাডোনার তৎকালীন সতীর্থ সার্জিও লুনা ‘ইনফোবে’-কে বলেছেন, ‘ঘটনাটা ঠিক এভাবেই ঘটেছিল কিনা সেটা আমার মনে নেই (হাসি)। কিন্তু দিয়েগো সব অর্থেই দুঃসাহসী ছিল, তাই এটা অসম্ভব কিছু নয়। সে আমাদের সবার চেয়ে বেশি চতুর ছিল।’

সেই প্রীতি ম্যাচে ম্যারাডোনা ১০ নম্বর জার্সি পরেননি। কারণ দলের মূল প্লে-মেকার ছিলেন সার্জিও লুনা। তিনিই ছিলেন ১০ নম্বর জার্সির মালিক। ম্যারাডোনা সেই ম্যাচ খেলেছিলেন ৯ নম্বর জার্সি পরে। পরবর্তীতে সেই স্টেডিয়ামের দেয়ালে ম্যারাডোনার একটি বিশাল ম্যুরাল তৈরি করা হয়েছে। সেই ম্যুরালে লেখা আছে, ‘২৩শে মার্চ, ১৯৭৭। এই মাঠে দিয়েগো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলেছিলেন এবং সেদিন তিনি ৯ নম্বর জার্সি পরেছিলেন।’
স্থানীয় চাসকোমুস একাদশের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলটি ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল। গোল না পেলেও ড্রিবলিং আর বুদ্ধিদীপ্ত পাসে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন ম্যারাডোনা। সেই ম্যাচটির স্মৃতিচারণ করে লুনা বলেন, ‘বৃষ্টি হয়েছিল, ম্যাচটা সত্যিই দারুণ ছিল। আমার কাছে সেদিনের খবরের কাগজের একটি কাটিংও আছে। আমরা একদল অসাধারণ তরুণ ছিলাম, ভাস্কো (ওলার্টিকোচিয়া), হুগো আলভেস, সার্জিও গুরিয়েরি, রবার্তো গাসপারি, প্যাটন বাউজা, ভিক্টর রামোসের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে ছিল আমাদের দল। আমাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া ছিল। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়েই বুঝে যেতাম পরবর্তী কৌশল কী হবে।’

ম্যারাডোনার বিপক্ষে সেদিন চাসকোমুস দলের হয়ে দারুণ খেলেছিলেন কার্লোস জালদুয়া। তিনি পেশায় ছিলেন আইনজীবী। ম্যারাডোনাকে আটকানোর কঠিন দায়িত্বটি তিনি বেশ বুদ্ধিমত্তার সাথেই পালন করেছিলেন। ‘এল আর্জেন্টিনো’ পত্রিকার মতে, ম্যাচটিতে প্রচুর দর্শক সমাগম হয়েছিল। ১৯ মিনিটে এদুয়ার্দো দেলগাদো আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন এবং ২৮ মিনিটে অ্যাঞ্জেল গঞ্জালেস সমতা ফেরান। এরপরই ম্যারাডোনা এবং লুনা দেখিয়ে দেন তাদের ম্যাজিক। তৎকালীন ধারাভাষ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘ম্যারাডোনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে হেড করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন লুনা, এরপর দারুণ গোলে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন।’
উল্লেখ্য, এর এক মাসেরও কম সময় আগে মাত্র ১৬ বছর ১২১ দিন বয়সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়েছিল ম্যারাডোনার। তবে সেদিন তিনি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিট পর বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচটি ৫-১ গোলে জিতে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার প্রশংসা করে 'এল গ্রাফিকো' পত্রিকা তাকে ১০-এর মধ্যে ৭ রেটিং দিয়েছিল। সেইসঙ্গে লিখেছিল, ‘সাহসী, চঞ্চল একজন ড্রিবলার।’

    শেয়ার করুন: