কোনো ম্যাচ না জিতে পেছনের দরজা দিয়ে বিশ্বকাপে

বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচ জিতেনি সুইডেন, তারপরও তারা বিশ্বকাপে। ছবি: সংগৃহীত
এও সম্ভব! একটা দল বিশ্বকাপ খেলছে অথচ বাছাইপর্বে কোনো জয়ই নেই। নিয়মের বেড়াজাল ভেঙে অবিশ্বাস্য এই ঘটনাই ঘটেছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে কোনো ম্যাচ না জিতে পেছনের দরজা দিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে গ্রাহাম পোটারের সুইডেন। এমন সাফল্যে পোটার হয়ে গেছেন সুইডেনের ‘হ্যারি পটার’।
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে সুইডেন ছিল গ্রুপ ‘বি’তে। তাদের সঙ্গী সুইজারল্যান্ড, কসোভো ও স্লোভেনিয়া। গ্রুপে ছয় ম্যাচে চারটিই হেরেছিল সুইডেন, ড্র দুটি। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে সুইডেন ছিল গ্রুপের তলানির দল।
এই গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে পৌঁছে সুইজারল্যান্ড। আর রানার্সআপ হয়ে প্লে-অফে যায় কসোভো। গ্রুপের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দুটি ম্যাচেই কসোভা হারিয়েছিল সুইডেনকে। অথচ প্লে-অফ শেষে কসোভোই নেই বিশ্বকাপে আর সুইডেন পেয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার টিকিট। কীভাবে সম্ভব?
এখানেই আসছে পেছনের দরজার গল্প। উয়েফার নিয়ম ছিল বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া দল নেশনস লিগে ভালো করলে পেতে পারে বিশ্বকাপ প্লে-অফের সুযোগ। সেই নিয়মেই প্লে-অফে পৌঁছেছিল সুইডেন। জেনে নেওয়া যাক নিয়মটা।
এ, বি, সি, ডি-এই চার ভাগে ভাগ হয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নেশনস লিগে অংশ নেয় ইউরোপের দলগুলা। বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া ৪টি দলের সরাসরি প্লে-অফ সেমিফাইনালে খেলার নিয়ম করে উয়েফা।
নেশনস লিগে সি ক্যাটাগরিতে ছিল সুইডেনে। সি-১ গ্রুপে স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া, আজারবাইজানকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সুইডেন। তারপরও মোট ১৪টি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের মধ্যে তাদের র্যাঙ্কিং ছিল ১০ নম্বর।
সুইডেনের ভাগ্য ভালো থাকায় এ ক্যাটাগরির চার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি ও ফ্রান্স বিশ্বকাপ বাছাইয়েও সেরা হয় নিজেদের গ্রুপে।
বি ক্যাটাগরির নরওয়ে আর ইংল্যান্ডও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাই নেশনস লিগ থেকে প্লে-অফে সুযোগ পায় রোমানিয়া, সুইডেন, নর্থ মেসিডোনিয়া ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।
এরপর প্লে-অফে বাজিমাত করে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে সুইডেনে। প্লে-অফ সেমিফাইনালে ইউক্রেনকে হারানোর পর ফাইনালে তারা হারায় রবার্ট লেভানদোস্কির পোল্যান্ডকে। তাই মূল বাছাইয়ে কোনো ম্যাচ না জিতেও নিয়মের ফাঁক গলে প্লে-অফে সুযোগ পেয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে সুইডেন।
এমন নিয়মের সমালোচনা গত বছরই করেছিলেন ইতালির কোচ জেনোরো গাত্তুসো। নিজেদের গ্রুপে ৬টি ম্যাচ জিতেও বিশ্বকাপ প্লে-অফে জায়গা পাওয়ায় হতাশা জানিয়েছিলেন তিনি,‘ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ের নিয়ম নিয়ে ভাবা উচিত। আমাদের সময়ে গ্রুপ রানার্সআপ হলেও বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা যেত। অথচ গ্রুপে ৬ ম্যাচ জিতেও প্লে-অফ খেলতে হবে আমাদের। আবার কেউ কোনো ম্যাচ না জিতেও অন্য টুর্নামেন্টে ভালো করে (নেশনস লিগ) প্লে-অফ খেলবে। এসব নিয়ে ভাবা উচিত।’
বাছাইয়ে কোনো জয় না পাওয়া সুইডেনের বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পর ইউরোপের নিয়ম নিয়ে প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে নতুনভাবে।

