জাভিতে ডাচরা কৌতূহলী তবে অন্ধবিশ্বাসী নন

জাতীয় দলের ডাগআউটে অভিষেক হয়েছে ক্লপ ও জাভির। ছবি: সংগৃহীত
আবারও ডাগআউটে ফিরেছেন জাভি হার্নান্দেজ ও ইয়ুর্গেন ক্লপ। ক্লাব অধ্যায় শেষে দুজনই এখন জাতীয় দলের কোচ। জাভি দায়িত্ব নিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের আর ক্লপ জার্মানির। উয়েফা নেশনস লিগে আমস্টারডামে নেদারল্যান্ডস-জার্মানির সেই ম্যাচটা ড্র হয়েছে ১-১ গোলে।
৩২ মিনিটে জার্মানিকে এগিয়ে নেন ফেলিক্স মেচা। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে রুবেন ফন বোমেলের দুর্দান্ত ক্রস থেকে করা ভলিতে সমতা ফেরান কোডি গাকপো। জার্মানির কাই হাভার্টজ ও জামাল মুসিয়ালা আর নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রোবির চোট অবশ্য দুশ্চিন্তাই বাড়াবে দুই কোচের।
ক্লাবের তুখোড় দুই কোচের জাতীয় দলে অভিষেকটা কেমন হলো? ম্যাচের পরিসংখ্যানে এর একটা ছবি পাওয়া যাবে। তিকিতাকা লালন করা জাভি নেদারল্যান্ডসকেও খেলিয়েছেন পাসনির্ভর ফুটবল। ৫৪ শতাংশ বলের দখল রেখে তারা পাস খেলেছিল ৪০৮টি। সঠিক পাস ছিল ৮৫ শতাংশ। জার্মানির ফুটবলের সঙ্গে যান্ত্রিকতা শব্দটা যায় ভালোভাবে। ক্লপের প্রথম ম্যাচেও বল দখলে বেশি মনোযোগ দেয়নি তারা। ৪৬ শতাংশ বলের দখল রেখে তারা পাস খেলেছিল ৩৬৯টি।
স্টেগেনের ৯ সেভ
ফাইনাল থার্ডে বার্সেলোনার মতোই দাপট দেখাতে চেয়েছেন জাভি। পোস্টে ২২টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিলেন ডাচরা। সেখানে জার্মানি লক্ষ্যে শট রাখে কেবল ২টি। বিপক্ষের বক্সে ডাচরা বল স্পর্শ করেছিল ৪৪বার আর জার্মানি ২৬ বার। তবে জার্মান গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেন ৯টি সেভ না করলে বড় ব্যবধানেই জিততে পারত নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচ শেষে তাই জাভির সন্তুষ্টি, ‘প্রথমার্ধে আমরা কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছিলাম, তবে বিরতির পর দাপট ছিল আমাদের। আমরা মাঠে চরিত্র, জয়ের ক্ষুধা ও তীব্রতা দেখিয়েছি, আমরাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করেছি । অবশ্যই এটি কেবল শুরু আর আমি ভীষণ খুশি। ম্যাচের শেষটা বিবেচনা করলে আমরা জয়ের দাবিদার ছিলাম।’
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে খেলতে পছন্দ করেন জাভি। আর ডাচরা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় খুশি তিনি, ‘বিরতির আগে তিজানি (রেইন্ডার্স) কিছুটা ফাঁকা জায়গা পাচ্ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে জোয়ি (ভিয়ারম্যান) খুব ভালো খেলেছে। আমি এমন সৃজনশীল মিডফিল্ডারদের পছন্দ করি, যারা সহজে বল হারায় না এবং খেলার গতি ভালো বোঝে। আমি কুইন্টেনকেও (টিম্বার) খুব পছন্দ করি, সে শক্ত দ্বৈরথগুলোতে জয়ী হয়। যদিও খেলার ধরন আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই সব মিলিয়ে আমি খুশি।’
ক্লপের সন্তুষ্টি
অখুশি নন ইয়ুর্গেন ক্লপও। ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, ‘খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আমি খুশি। আমরা যে জয়ের ক্ষুধা ও আবেগ দেখিয়েছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমরা এর চেয়েও ভালো খেলতে পারি এবং আরও মানসম্পন্ন ফুটবল উপহার দিতে পারি, এতে সন্দেহ নেই। আমরা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের জন্য যে চাপ তৈরি করেছি, তার জন্য আমাদের প্রচুর দৌড়াতে হয়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে—এটি দুই দলের জন্যই বেশ ক্লান্তিকর ছিল। জয় নিয়ে ফিরতে পারলে সত্যিই দারুণ হতো, তবে এই এক পয়েন্ট নিয়েও আমি খুশি।’
ম্যাচ শুরুর আগেই বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ইনজুরি সমস্যা সামলাতে ক্লপের অভিষেকটা সহজ ছিল না। ওয়ার্ম-আপের সময় পেশির সমস্যার কারণে একাদশ থেকে জামাল মুসিয়ালা ছিঠকে যান। ম্যাচের ত্রিশ মিনিটের মাথায় আর্সেনাল ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ একটি ফাউলের শিকার হয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এ নিয়ে ক্লপ বললেন, ‘দুজনেরই এমআরআই করানো হচ্ছে। তবে অবশ্যই এটি ভালো কোনো খবর নয়। পরের ম্যাচে ওরা আমাদের দলে না থাকলেও আশা করি তারা খুব দ্রুতই মাঠে ফিরবে।’
চ্যালেঞ্জ বেশি জাভির
নেদারল্যান্ডসসমৃদ্ধ ইতিহাসের এক জাতীয় দল। আর ডাচদের কোচ হয়েই জাভি ঐতিহ্যবাহী উন্মুক্ত অনুশীলন পর্ব বন্ধ করে দিয়েছেন! তবে তার আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার মানসিকতা, নতুন ভাষা শেখার প্রচেষ্টা এবং মেমফিস ডিপাইকে দলে না নেওয়া অত্যন্ত কৌশলে জানানোর দক্ষতা বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
জাভিকে নিয়ে ডাচ ম্যাগাজিন ভোয়েটবল ইন্টারন্যাশনালের সাংবাদিক টিম ভান ডেইন বলেছেন,‘বেশিরভাগ মানুষই জাভিকে সমর্থন করছেন, কারণ তারা এক নতুন শুরু ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির অপেক্ষায় ছিলেন। বিশ্বকাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নতুন কিছুর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। জাভিকে ঘিরে বর্তমান সমর্থনের জোয়ার এটাই প্রমাণ করে। তবে, অনেক ডাচ মানুষের স্বভাবই হলো গ্লাসের অর্ধেক খালি অংশ দেখা, তাই সমালোচনা যে দ্রুতই আসবে তা নিশ্চিত। জাভিকে ঘিরে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ও কৌতূহল রয়েছে, তবে এখনই অন্ধ বিশ্বাস হয়নি কারও।’
ডাচ সংবাদপত্র আলগেমিন ডাগব্লাডের সাংবাদিক ইয়োহান ইনানও একমত হয়ে বলেছেন, ‘একজন ডাচ কোচ না পাওয়ায় ডাচরা বিরক্ত ছিল এবং জাভির যোগদান সেই অসন্তুষ্টি দূর করতে পারেনি। তবে বোঝা যাচ্ছে যে মানুষ তার ক্যারিয়ারকে সম্মান করে এবং তিনি নতুন কী উপহার দিতে পারেন তা দেখতে কৌতূহলী।’




