যেভাবে নির্বাচিত হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী

সংগৃহীত ছবি
ফুটবলারদের ব্যক্তিগত অর্জনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর। প্রতিবছর এই পুরস্কার ঘিরে থাকে নানা আলোচনা, কে জিতবেন তা নিয়ে চলে হিসাব-নিকাশ। তবে সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস কিংবা জনপ্রিয়তা নয়, নির্দিষ্ট নিয়মে ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হন ব্যালন ডি’অর জয়ী। কীভাবে হয় এই নির্বাচন, কারা ভোট দেন, আর কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয় তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠে।
ভোট দেন কারা?
আগের মতো অনেক দেশের প্রতিনিধিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দিতে পারেন। নারী ফুটবলের ক্ষেত্রে সুযোগ পান শীর্ষ ৫০ দেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিটি দেশের ভোটার সাংবাদিককে নির্বাচন করে ফ্রান্স ফুটবল। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারের মতো এখানে জাতীয় দলের অধিনায়ক কিংবা কোচরা ভোট দেন না।
কীভাবে দেওয়া হয় পয়েন্ট?
ফ্রান্স ফুটবল ও ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের সম্পাদকীয় দল ৩০ জন মনোনীত খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করে। এক্ষেত্রে উয়েফার দূতদেরও মতামত নেওয়া হয়। এরপর প্রত্যেক ভোটার সেই তালিকা থেকে নিজের পছন্দের সেরা ১০ জনকে ক্রমানুসারে বেছে নেন।
ভোটে প্রথম হওয়া খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানের জন্য বরাদ্দ ১২ পয়েন্ট, তৃতীয় স্থানে ১০। এরপর চতুর্থ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়। সব ভোটের পয়েন্ট যোগ করে নির্ধারণ করা হয় বিজয়ী।
কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়?
ব্যালন ডি’অর নির্বাচনে তিনটি মানদণ্ড অনুসরণ করেন ভোটাররা। গুরুত্বের ক্রমানুসারে সেগুলো হলো—
১. ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও প্রভাব: মাঠে একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে তার ভূমিকা, পরিসংখ্যান এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
২. দলীয় সাফল্য ও অর্জন: সংশ্লিষ্ট মৌসুমে ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে জেতা শিরোপা ও অন্যান্য সাফল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
৩. খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও নৈতিকতা: মাঠে আচরণ, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান এবং ফুটবলের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাও ভোটের ক্ষেত্রে বিবেচ্য।
এখানে পুরো ক্যালেন্ডার বছরের বদলে আগের মৌসুমের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়।
ভোট সমান হলে কী হবে?
দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের মোট পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হবে, কে সবচেয়ে বেশি প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন। এতেও সমতা না কাটলে দ্বিতীয় স্থানের ভোট তুলনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী তৃতীয় স্থানসহ পরবর্তী অবস্থানের ভোট বিবেচনায় নেওয়া হবে। সব হিসাবের পরও সমতা থাকলে আয়োজক ফ্রান্স ফুটবলের সম্পাদক-ইন-চিফ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সব মিলিয়ে ব্যালন ডি’অর জিততে শুধু গোল কিংবা শিরোপা নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের সাফল্য এবং মাঠের আচরণ—সবকিছুই বিবেচনায় আসে। ভোটারদের দেওয়া পয়েন্টের যোগফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার কার হাতে উঠবে।



