ফর্টিস ও পুলিশের অভিষেক আজ এএফসি লিগে

ছবি: মোশারফ হোসেন
গত বছর ঢাকায় মুরাস ইউনাইটেডের কাছে হেরে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেই থামতে হয়েছিল আবাহনীকে। আজ মঙ্গলবার ঢাকাতেই সেই কিরগিজ জায়ান্ট মুরাসকে সামনে পাচ্ছে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব। অভিষেকটা জয়ে রাঙাতে ফর্টিসকে দিতে হবে বড় পরীক্ষা। শুধু অংশগ্রহণ নয়, ফর্টিস সামর্থ্যের সেরাটা দিতে চাইবে ইতিবাচক ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ৩টায়। আজ জর্ডানে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের আরেক ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি মুখোমুখি হবে সিরিয়ান চ্যাম্পিয়ন আল ইত্তিহাদ আহলির।
গত মৌসুমের দুই সেরা দল বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিং না করায় ফর্টিস ও পুলিশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে অভিষেকের সুযোগ।
শীর্ষ পর্যায়ে পা রাখার পর থেকেই ফর্টিসের ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তারকার পেছনে না ছুটে তারকা জন্ম দেবে তারা। এ কারণেই কখনোই বড় বাজেটে নামিদামি তারকা দলে নেয়নি তারা। এমনকি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের এ ম্যাচেও জাতীয় দলের বড় কোনো ফুটবলার নেয়নি ফর্টিস।
এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে ডাগআউটে দাঁড়াবেন সাবেক এই ফুটবলার। মুরাসকে সব দিক থেকে এগিয়ে রাখছেন, তবে তাদের হারানোর সামর্থ্য তাদের আছে বলেই হাল ছাড়ছেন না, ‘এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সত্যি বললে, ফর্টিস যেহেতু লিগে তৃতীয় হয়েছিল, আমরা প্রস্তুত ছিলাম না এএফসি কাপে খেলার ব্যাপারে। যেকোনো কারণেই হোক, সুযোগটা আমাদের কাছে এসেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ হয়েছে দল নিয়ে। ৯০ মিনিটের খেলায় যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমি আমার নিজের ও দলের ওপর শতভাগ বিশ্বাস রাখছি।’
মুরাস ইউনাইটেড বড় স্বপ্ন নিয়ে খেলে এই টুর্নামেন্টে। গত বছর তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। দলটিতে ১৬ জন আছেন বিদেশি ফুটবলার। কিরগিজ লিগে এখন তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে এই ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি ফর্টিসের। ঘরোয়া ফুটবল শুরু হয়নি। চলছে দলবদল। তারপরও নিজেদের আবহাওয়া, পরিচিত আবহ ও দর্শকের সামনে সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কায়সার, ‘মুরাসের শীর্ষ লিগে আবির্ভাবও আমাদের সমসাময়িক। তবে আর্থিকভাবে শক্তিশালী বলে চার বছরেই সেরাদের কাতারে চলে এসেছে। ওরা শারীরিক সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে। ছোট ছোট পাসে খেলে, সেটপিসেও অনেক শক্তিশালী। কিরগিজ জাতীয় দলের বেশ কজন ফুটবলার আছে ওদের। তবে ওরা অপরাজেয় না। ওদের হারানোই যাবে না, বিষয়টা এমন না।’
দলটির আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র গাম্বিয়ান স্ট্রাইকার পা ওমর বাবুও দিচ্ছেন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা সবাই বড় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত আছি। ফর্টিসের এই ম্যাচ দিয়ে ইতিহাস গড়বে, আমরাও এর অংশ হব। তাই ভীষণ রোমাঞ্চিত আছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে জিতে পরের ধাপে পৌঁছে যাওয়া। অভিষেকে জয় পেলে ইতিহাসে ঠাঁই পাব আমরাও।’
এই ফর্টিস চায় মুরাসকে থামিয়ে গ্রুপ পর্বে পা রাখতে। একই স্বপ্ন নিয়ে জর্ডানে বড় পরীক্ষা দিতে হবে পুলিশকেও। সিরিয়ান চ্যাম্পিয়ন আল-ইত্তিহাদ সব দিক থেকেই অবশ্য পুলিশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকা দল।




