জার্মানির দায়িত্ব নিয়েই ক্লপের কড়া নিয়ম চালু

সংগৃহীত ছবি
জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব পেয়েই খেলোয়াড়দের জন্য কিছু কঠোর নিয়ম চালু করেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সামগ্রিক পরিবেশ ও দলীয় সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চান লিভারপুলের সাবেক এই সফল ম্যানেজার।
জার্মানির হেড কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেই দলের দৈনন্দিন নিয়মকানুন পাল্টে দিয়েছেন এই কিংবদন্তি কোচ। জার্মান গণমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলগত ঐক্য ও একাগ্রতা বাড়াতে কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন ক্লপ। যা তার পূর্বসূরি ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের নীতিগুলোর থেকে অনেকটাই ভিন্ন। আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর আগে একটি সুসংগঠিত দল গড়ে তোলাই ক্লপের মূল লক্ষ্য।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে দলের খাওয়ার টেবিলে। নাগেলসম্যানের সময়ে খেলোয়াড়দের রাতের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় ছিল না। তবে ক্লপ নির্দেশ দিয়েছেন—পুরো দলকে নির্ধারিত সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থেকে একসাথে রাতের খাবার শুরু করতে হবে।
ডাইনিং হলের নিয়মকানুনের পাশাপাশি অনুশীলনে মোবাইল ও প্রযুক্তির ব্যবহারেও কড়াকড়ি নিয়ম করেছেন ক্লপ। ম্যাচের দিন অ্যাক্টিভেশন সেশন (যেমন: জিম বা ফিজিও থেরাপির সময়) চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রস্তুতির এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে খেলোয়াড়রা যেন শতভাগ মনোযোগী থাকেন সেটাই নিশ্চিত করতে চান নতুন কোচ।
ক্লপের আনা অন্যতম ব্যতিক্রমী নিয়মটি হলো—টিম হোটেল বা ট্রেনিং সেন্টারে চুল কাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জাতীয় দলের ক্যাম্পকে শতভাগ পেশাদার কর্মক্ষেত্র হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বমানের পেশাদারিত্ব গড়ে তুলতে খেলোয়াড়দের প্রতি ক্লপের বার্তা পরিষ্কার–– জাতীয় দলের ক্যাম্প কাজের জায়গা, ব্যক্তিগত যেকোনো কাজ ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগেই সেরে আসতে হবে।
আন্তর্জাতিক ম্যাচের উইন্ডোতে খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নাগেলসম্যানের আমলে এই বিষয়ে বেশ ছাড় দেওয়া হলেও নতুন কোচ সেই সুবিধা সীমিত করছেন। এখন থেকে নিয়মিত আসার সুযোগের বদলে কেবল নির্দিষ্ট কিছু সময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।



